কলকাতা, নিউজ ডেস্ক : রাতের লোকাল (local train) ট্রেনগুলিতে মহিলা যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে গভীর প্রশ্ন। যাত্রীদের অভিযোগ, রাতের লোকাল ট্রেনগুলি যেন ধীরে, ধীরে হয়ে উঠছে দুষ্কৃতিদের স্বর্গরাজ্য। বিশেষত, লোকাল ট্রেনের মহিলা কামরায় (Ladies Compartment) পর্যাপ্ত নিরাপত্তা তো দূরের কথা-এমনকি কোনও রেলপুলিশ (RPF) এর দেখা পর্যন্তও মেলে না।
আর তারই সুযোগে এক ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটলো রাতের ডাউন ক্যানিং- শিয়ালদহ লোকাল ট্রেনে। কোনও নিরাপত্তা না থাকার কারণে ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হতে হয়েছিল এক মহিলা যাত্রীকে। নিজের গতিতেই চলছিল ট্রেন সেই সুযোগেই মহিলা কামরায় ঢোকে কয়েকজন যুবক। তাদের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে উঠেছে ইভটিজিংয়ের অভিযোগ। এক সাহসিনী মহিলা যাত্রী সেই ইভটিজারকে হাতেনাতে ধরে গণধোলাইও দেন বলে জানা যাচ্ছে। আর তাতেই রীতিমতো শোরগোল পড়ে যায় গোটা ট্রেনে। ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে ভাইরাল সেই ভিডিও (Vairal video)।
সুত্র মারফত জানা গিয়েছে, সেদিন রাতে ডাউন ক্যানিং শিয়ালদহ লোকাল ট্রেন চলাকালীন ওঠে ওই দুষ্কৃতি এবং এক মহিলাকে ইঙ্গিত করে অশ্লীল মন্তব্য, আচরণ ও নোংরা ইঙ্গিত করে উত্যক্ত করতে শুরু করে। প্রথমে সেই মহিলা সেটিকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি ক্রমশ হাতের বাইরে বেরিয়ে যাওয়ায় ওই মহিলাও চুপ করে থাকেননি। তিনি পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে ভয়ের তোয়াক্কা না করে সঙ্গে, সঙ্গে তীব্র প্রতিবাদ করেন এবং ইভটিজারকে কামরাতেই সকলের সামনেই গণধোলাই দেন। প্রথমে তার এই কাণ্ড দেখে চমকে যান অন্যান্য যাত্রীরা। পরবর্তীতে ওই মহিলা যাত্রীর এই প্রতিবাদীরূপ জনসাধারণের সামনে ফুটে ওঠে এবং তার এই সাহসিকতা দেখে অনেকেই তাকে সাধুবাদ জানান।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মহিলা যাত্রীদের দাবি , রাতের লোকাল ট্রেনে (Local train) বিশেষ করে মহিলা কামরা গুলিতে নিয়মিত পুলিশি নজরদারি রাখা প্রয়োজন এবং নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবিও উঠছে।এর ফলে এই ধরনের ঘটনা সম্মুখীন হতে হবে না তাদের। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে রাতে ট্রেন গুলিতে বাড়তি নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন মহিলা যাত্রীরা।
এখন মহিলা যাত্রীদের মনে একটাই প্রশ্ন, যদি রাতের ট্রেন গুলিতে মহিলা কামরাতে নিরাপত্তা না থাকে তাহলে নিত্যযাত্রীরা রাতে কাজ করার পর বা অন্যান্য প্রয়োজনে তারা নিশ্চিন্তে যাতায়াত করবে কিভাবে ? এই ঘটনার পর লোকাল ট্রেন গুলিতে সংরক্ষিত মহিলা কামরায় পুরুষ যাত্রীদের প্রবেশ রুখতে ও মহিলাদের নিরাপত্তা যাতে আরও জোর দেওয়া হয় এবং পুলিশি নজরদারিও যাতে রাখা হয় সেই ব্যাপারে তিব্র দাবি উঠছে। আগামীদিনে এই ঘটনার পরে রেল কি ব্যবস্থা গ্রহণ করে সেটাই এখন দেখার।
