কলকাতা: তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআইয়ে যোগ দেওয়া সাংসদদের শিবিরে কি এবার ভাঙনের সুর? বিদ্রোহী সাংসদদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অনুপস্থিত কাকলি ঘোষ দস্তিদার। আর তাঁকে ঘিরেই নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। যদিও শিবিরে কোনও বিভাজন নেই বলে দাবি করেছেন সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, কয়েকজন সাংসদ উপস্থিত থাকতে না পারলেও সকলেই একসঙ্গে রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার কলকাতার একটি হোটেলে বিদ্রোহী সাংসদদের বৈঠক হয়। বৈঠকের আয়োজন করেন সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেখানে উপস্থিত ছিলেন না কাকলি ঘোষ দস্তিদার, যিনি এই গোষ্ঠীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ। তাঁর অনুপস্থিতি ঘিরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তবে কি বিদ্রোহী শিবিরের অন্দরে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে?
স্পিকারের নোটিসের জবাব দিতে বাড়তি সময়ের আবেদন
তৃণমূলের ২০ জন সাংসদ দল ছেড়ে এনসিপিআইয়ে যোগ দেওয়ার পর তাঁদের সাংসদ পদ খারিজের দাবিতে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দলত্যাগবিরোধী আইনে তাঁদের বিরুদ্ধে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে আবেদন জানানো হয়েছিল। সেই নোটিসের জবাব দেওয়ার জন্য আরও দু’সপ্তাহ সময় চেয়েছেন বিদ্রোহী সাংসদরা।
গত ১৮ জুন তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই সাংসদদের বিরুদ্ধে পদ খারিজের আবেদন করেছিলেন। তৃণমূলের মোট ২৭ জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে ২০ জন দলীয় অবস্থান থেকে সরে এসে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-কে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নেন বলে অভিযোগ।
কী বলছেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়?
বৈঠক ঘিরে তৈরি হওয়া জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, এটি মূলত পুজোর আগে সাংসদদের একটি মিলনমেলা ছিল। কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেই তাঁরা একত্রিত হয়েছিলেন। স্পিকারের নোটিসের জবাব দিতে বাড়তি সময় চাওয়ার সিদ্ধান্তও পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
কাকলি ঘোষ দস্তিদারের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রচনা জানান, কাকলি তাঁদের চিফ হুইপ এবং তিনি গোষ্ঠীর সঙ্গেই রয়েছেন। পারিবারিক সমস্যার কারণে তিনি বৈঠকে আসতে পারেননি। দু’দিন আগে বৈঠকের কথা জানানোয় কয়েকজন সাংসদও উপস্থিত থাকতে পারেননি বলে দাবি তাঁর।
এমনকী, কয়েকজন সাংসদ এনসিপিআইয়ের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ছেড়ে দিয়েছেন বলেও জল্পনা ছড়িয়েছে। তবে সেই দাবি নস্যাৎ করে রচনা জানান, সবাই গ্রুপে রয়েছেন। মাঝেমধ্যে গ্রুপের নাম পরিবর্তন করা হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংসদে এখনও তৃণমূলের সাংসদ হিসেবেই নথিভুক্ত
বিদ্রোহী সাংসদরা লোকসভায় পৃথক রাজনৈতিক গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি চাইলেও সংসদের নথিতে তাঁদের এখনও তৃণমূলের সাংসদ হিসেবেই দেখানো হচ্ছে। স্পিকারের দফতরও তাঁদের পৃথক সংসদীয় দল হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি। যদিও বাদল অধিবেশনের আগে তাঁদের বসার জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
সব মিলিয়ে, বিদ্রোহী শিবিরের ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করছে স্পিকারের সিদ্ধান্ত এবং সাংসদদের পরবর্তী পদক্ষেপের উপর। প্রকাশ্যে ঐক্যের বার্তা দেওয়া হলেও কাকলি ঘোষ দস্তিদারের অনুপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনা আপাতত থামছে না।
