বাঁকুড়া, রেশমি ব্যানার্জি: চারিদিকে শুধু জল আর জল। তার মধ্যেই গর্জন করে ছুটছে গন্ধেশ্বরীর স্রোত। নিম্নচাপের জেরে টানা বৃষ্টিতে ফের ভয়াবহ রূপ নিয়েছে গন্ধেশ্বরী নদী। জলের তোড়ে কার্যত ডুবে গিয়েছে বাঁকুড়ার মানকানালি সেতু। সেতুর উপর দিয়ে বইছে নদীর জল। এরমধ্যেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতু পার করার চেষ্টা করতে গিয়ে প্রবল স্রোতের মাঝে আটকে পড়েছে একটি ট্রাক। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। নিরাপত্তার কারণে বন্ধ হয়ে গিয়েছে গুরুত্বপূর্ণ এই যোগাযোগপথ। তাতেই চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হচ্ছে নিত্যযাত্রীদের।
বাঁকুড়া শহর থেকে উখরা যাওয়ার অন্যতম প্রধান রাস্তার উপরে রয়েছে গন্ধেশ্বরী নদীর এই মানকানালী সেতু। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই সেতুটির একটি অংশ ভগ্ন অবস্থায় রয়েছে। বর্ষা এলে গন্ধেশ্বরীর জল বাড়তে শুরু করলে এই সেতুই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় আতঙ্ক স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য। এবারও তার ব্যতিক্রম হল না। টানা বৃষ্টির ফলে জলমগ্ন গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তা। ক্রমাগত বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে থাকার পাশাপাশি বাড়ছে আতঙ্ক। যে-কোনো সময় সেতু পার করতে গিয়ে ঘটতে পারে বড়সড় দুর্ঘটনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এর আগেও নিম্নচাপের বৃষ্টিতে গন্ধেশ্বরী জল বেড়ে সেতুটি জলের তলায় চলে গিয়েছিল। পরে জল কিছুটা কমলে স্থানীয়ভাবে বিকল্প রাস্তা তৈরি করে কোনওরকমে যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখা হয়েছিল। কিন্তু ফের নিম্নচাপের বৃষ্টিতে নদীর জল বাড়ায় সেই সাময়িক ব্যবস্থাও ভেস্তে গিয়েছে। এরইমধ্যে ঝুঁকি নিয়ে সেতু পার হওয়ার চেষ্টা করে একটি ট্রাক। কিন্তু মাঝপথে প্রবল স্রোতের সামনে কার্যত অসহায় হয়ে পড়ে গাড়িটি। ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
বিপদজনক পরিস্থিতির কারণে সেতু দিয়ে যাতায়াত সাময়িক বন্ধ হয়ে যায়। ফলে, বাঁকুড়া শহরের সঙ্গে মানকানালি, উখরাডিহি-সহ বিস্তীর্ণ এলাকার যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন। স্থানীয়দের দাবি, এই রাস্তার ওপর নির্ভরশীল প্রায় ২০ থেকে ৩০ টি গ্রামের মানুষ। প্রতিদিন পড়ুয়া, শিক্ষক, চাকরিজীবী , ব্যবসায়ী থেকে রোগী-হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত এই পথের উপর নির্ভরশীল। বিকল্প রাস্তা দিয়ে যেতে গেলে অতিরিক্ত প্রায় ১২ থেকে ১৪ কিমি ঘুরতে হচ্ছে। এতে সময়ের সাথে যাতায়াতের খরচও বেড়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতি বর্ষাতেই একই ছবি। নদীর জল বাড়ে, সেতু ডুবে যায় এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। জল কমলে কোনওরকমে সাময়িক ব্যবস্থা করা হয়, কিন্তু স্থায়ী সমাধান হয় না। তাই এবার গন্ধেশ্বরীর জল নামার অপেক্ষার পাশাপাশি উঠছে আরও বড় দাবি- 'সাময়িক রাস্তা নয়, চাই স্থায়ী সেতু।' না হলে প্রতি বর্ষাতে গন্ধেশ্বরীর জল হাজার হাজার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে থমকে দেবে।
নিম্নচাপের ভারী বৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে উঠেছে। বিপদের মুখে পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের। গুরুত্বপূর্ণ এই সেতু মেরামতের দিকে কবে পদক্ষেপ গ্রহণ করে প্রশাসন সেদিকেই তাকিয়ে বাঁকুড়ার একাংশ মানুষ।