শান্তিনিকেতনের শিল্প ও শিক্ষাচর্চার সঙ্গে এবার আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হচ্ছে লন্ডনের গ্রিনউইচ বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্বভারতীর কলাভবন এবং ইউনিভার্সিটি অব গ্রিনউইচের মধ্যে একটি সমঝোতাপত্র (মউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। শুক্রবার শান্তিনিকেতনের নন্দন আর্ট গ্যালারিতে এই মউ স্বাক্ষর হয়। দুই প্রতিষ্ঠানের এই আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় শিল্পশিক্ষা, সৃজনশীল চিন্তাভাবনা এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
মউ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে গ্রিনউইচ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডেভিড ম্যাকডোয়াল ওয়াটারওয়ার্থ এবং অধ্যাপক ইয়ান থম্পসন উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা কলাভবনের পড়ুয়াদের সঙ্গে নকশা ও শিল্পশিক্ষা নিয়ে মতবিনিময় করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বভারতীর কলাভবনের অধ্যক্ষ শিশির সাহানা-সহ অন্যান্য শিক্ষক ও আধিকারিকরা।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা নিজেদের শিল্পভাবনা ও কাজ একে অপরের সামনে তুলে ধরার সুযোগ পাবেন। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক স্তরে শিল্পশিক্ষার পদ্ধতি, সৃজনশীল কাজের ধরন এবং নতুন চিন্তার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে কলাভবনের ছাত্রছাত্রীদের জন্য। আগামী ১২ আগস্ট পর্যন্ত দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শিল্প ও শিক্ষাসংক্রান্ত আলোচনা এবং বিভিন্ন কর্মসূচি চলবে।
বিশ্বভারতীর কলাভবনের অধ্যক্ষ শিশির সাহানা জানান, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাবনায় গড়ে ওঠা কলাভবনের শিল্পচর্চা বরাবরই প্রকৃতি ও গ্রামীণ পরিবেশের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। এই পরিবেশ ও শিল্পভাবনা বিদেশের পড়ুয়াদের কাছেও নতুন অভিজ্ঞতা হয়ে উঠতে পারে। একইভাবে বিশ্বভারতীর পড়ুয়ারাও ইংল্যান্ডের শিল্পচর্চা ও শিক্ষাপদ্ধতি সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবেন।
গ্রিনউইচ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডেভিড ম্যাকডোয়াল ওয়াটারওয়ার্থ এবং অধ্যাপক ইয়ান থম্পসন বিশ্বভারতীর পরিবেশ ও শিল্পচর্চার প্রশংসা করেন। তাঁদের মতে, রবীন্দ্রনাথের বিশ্বভারতী কার্যত একটি উন্মুক্ত শিল্পাঙ্গনের মতো। এই মউয়ের ফলে ভবিষ্যতে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আরও বৃহত্তর শিক্ষাগত ও সৃজনশীল সহযোগিতার পথ খুলবে।
শুধু গ্রিনউইচ নয়, আন্তর্জাতিক স্তরে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ইতিমধ্যেই সম্পর্ক তৈরি করেছে বিশ্বভারতী। থাইল্যান্ডের বুরাফা বিশ্ববিদ্যালয় ও সিলপাকর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি ফ্রান্স এবং নেদারল্যান্ডসের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গেও মউ স্বাক্ষর হয়েছে। এর ফলে বিদেশে পড়াশোনা ও অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন বিশ্বভারতীর পড়ুয়ারা। আগামী দিনে বিদেশি পড়ুয়ারাও শান্তিনিকেতনে এসে কলাভবনের শিল্পচর্চার সঙ্গে পরিচিত হবেন।
ফলে শান্তিনিকেতনের শিল্পঐতিহ্য এবার শুধু দেশের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না থেকে আন্তর্জাতিক শিক্ষাক্ষেত্রে আরও বিস্তৃত হওয়ার পথেই এগোচ্ছে।