কলকাতা: রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় টোটো চলাচল নিয়ে এবার আরও কড়া অবস্থান নিল পরিবহণ দপ্তর। জাতীয় ও রাজ্য সড়কের পর এবার জিটি রোড এবং নিয়মিত বাস চলাচল করে এমন গুরুত্বপূর্ণ রুটেও টোটো চলাচল বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অমান্য করলে মোটর ভেহিকলস অ্যাক্ট, ১৯৮৮ এবং সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
পরিবহণ দপ্তরের প্রধান সচিব রবি ইন্দর সিং ইতিমধ্যেই রাজ্য পুলিশের ডিজিকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের জন্য চিঠি দিয়েছেন। সেখানে পুরনো নির্দেশিকার কথা মনে করিয়ে দিয়ে নিষিদ্ধ রাস্তায় টোটো চলাচল বন্ধ করতে বলা হয়েছে।
কেন্দ্রের ২০১৪ সালের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ই-রিকশা মূলত ‘লাস্ট মাইল কানেক্টিভিটি’ অর্থাৎ স্বল্প দূরত্বে স্থানীয় যাতায়াতের জন্য ব্যবহারের কথা। ২০১৬ সালে রাজ্য পরিবহণ দপ্তরের নির্দেশিকাতেও নির্দিষ্ট স্থানীয় রাস্তায় টোটো চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। জাতীয় সড়ক, রাজ্য সড়ক এবং গুরুত্বপূর্ণ বড় রাস্তায় টোটো চলাচলের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ ছিল।
কিন্তু বাস্তবে ছবিটা অন্যরকম বলে অভিযোগ। বিভিন্ন জেলায় জাতীয় ও রাজ্য সড়কের পাশাপাশি জিটি রোডেও যাত্রী নিয়ে টোটো চলতে দেখা যাচ্ছে। পরিবহণ দপ্তরের মতে, এর ফলে একদিকে যেমন যানজট বাড়ছে, অন্যদিকে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে। সেই কারণেই পুরনো নির্দেশিকা এবার কঠোরভাবে কার্যকর করতে পুলিশকে বলা হয়েছে।
বিশেষ নজরে রয়েছে জিটি রোড। এই রাস্তা রাজ্য সড়কের আওতাভুক্ত হওয়ায় সেখানে টোটো চলাচলের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি যে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ রুটে নিয়মিত বাস চলে, সেখানেও টোটোর চলাচল নিয়ন্ত্রণের পথে হাঁটছে রাজ্য।
পরিবহণ দপ্তর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বেআইনি টোটোর পরিবর্তে নিয়ম মেনে ই-রিকশা চালানোর ব্যবস্থা করার বিষয়েও ভাবনাচিন্তা চলছে। একই সঙ্গে জেলা ও মফস্সলের যে সমস্ত বাসরুট টোটোর দাপটে বন্ধ হয়ে গিয়েছে বলে বাসমালিকদের অভিযোগ, সেই রুটগুলি ফের চালু করার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বাসমালিক সংগঠনগুলির অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অনিয়ন্ত্রিত টোটো চলাচলের কারণে বাসের গতি কমে যাচ্ছে। তৈরি হচ্ছে যানজট। যাত্রী তোলা নিয়েও সমস্যা হচ্ছে বলে তাঁদের দাবি। সারা বাংলা বাস মিনিবাস সমন্বয় সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাহুল চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বড় রাস্তায় টোটো চলাচল বন্ধের দাবি তাঁরা একাধিকবার পরিবহণ দপ্তরের কাছে জানিয়েছেন। তাঁর মতে, নির্দেশিকা কার্যকর হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমার পাশাপাশি বাস চলাচলেও গতি আসবে।
এর আগেও জাতীয় ও রাজ্য সড়কে টোটো চলাচল নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে সেই বিধিনিষেধ সর্বত্র কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এবার তাই শুধু নির্দেশিকা জারি করেই থেমে না থেকে তা বাস্তবে কার্যকর করার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
ফলে জিটি রোড বা গুরুত্বপূর্ণ বাসরুটে টোটো চালকদের এখন আরও সতর্ক থাকতে হবে। নির্ধারিত স্থানীয় রাস্তার বাইরে টোটো চলাচল করলে প্রশাসনিক ব্যবস্থার মুখে পড়তে হতে পারে।
