ভ্রমণের সময় দেখাতে হবে মূল ডিজিটাল টিকিট ! রেলের নতুন নিয়ম ঘিরে বিভ্রান্তি
নয়াদিল্লি: মোবাইলে আনরিজার্ভড ট্রেনের টিকিট কেটে তার স্ক্রিনশট সংরক্ষণ করা বা হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে রাখা— বহু যাত্রীর কাছেই এটি ছিল স্বাভাবিক অভ্যাস। কিন্তু এবার সেই অভ্যাসেই কার্যত ইতি টানল ভারতীয় রেল। রেল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, WhatsApp-এ ফরওয়ার্ড করা বা স্ক্রিনশট হিসেবে রাখা আনরিজার্ভড ই-টিকিট যাত্রার বৈধ প্রমাণ নয়। টিকিট পরীক্ষার সময় যাত্রীর নিজের নিবন্ধিত মোবাইলে RailOne অ্যাপে থাকা মূল ই-টিকিটই গ্রহণযোগ্য হবে।
রেলের দাবি, ডিজিটাল টিকিটের অপব্যবহার ও জালিয়াতি রুখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি দেখা গিয়েছে, একই টিকিটের স্ক্রিনশট একাধিক ব্যক্তি ব্যবহার করছেন বা অন্যের মোবাইলে পাঠিয়ে তা দেখিয়ে যাত্রার চেষ্টা করছেন। সেই প্রবণতা বন্ধ করতেই নিয়ম আরও কড়া করা হয়েছে।
তবে রেলের এই নির্দেশ সামনে আসতেই যাত্রীদের একাংশের মধ্যে শুরু হয়েছে অসন্তোষ। অনেকের প্রশ্ন, ট্রেনে বা স্টেশনে মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকলে কিংবা অ্যাপ খুলতে প্রযুক্তিগত সমস্যা হলে কী হবে? এতদিন স্ক্রিনশট বা হোয়াটসঅ্যাপে সংরক্ষিত টিকিটই ছিল বিকল্প ভরসা। নতুন নিয়মে বৈধ টিকিট কেটেও অযথা হয়রানির আশঙ্কা করছেন অনেকেই।
সোশ্যাল মিডিয়াতেও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। যাত্রীদের একাংশের বক্তব্য, ডিজিটাল জালিয়াতি রুখতে কঠোরতা প্রয়োজন হলেও, নেটওয়ার্ক সমস্যা বা প্রযুক্তিগত ত্রুটির কথা মাথায় রেখে বিকল্প ব্যবস্থা রাখা উচিত ছিল।
রেল অবশ্য যাত্রীদের পরামর্শ দিয়েছে, যাত্রার আগে RailOne অ্যাপে টিকিটটি সঠিকভাবে সংরক্ষিত রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করে নিতে। কারণ, টিকিট পরীক্ষকের কাছে শুধুমাত্র মূল ডিজিটাল টিকিটই বৈধ বলে গণ্য হবে।
রেলের এই নতুন নির্দেশের জেরে এখন প্রশ্ন একটাই, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি কি আরও বাড়বে, নাকি দীর্ঘমেয়াদে জাল টিকিট ও অপব্যবহার রুখতে এই পদক্ষেপই হবে কার্যকর?