নয়াদিল্লি/কলকাতা: জল্পনাটা চলছিল কয়েক দিন ধরেই। বৃহস্পতিবার তা আরও জোরালো হল। রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। দিল্লিতে গিয়ে উপরাষ্ট্রপতি তথা রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি. পি. রাধাকৃষ্ণণের হাতে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। সেই সাক্ষাতের ছবিই এখন নতুন রাজনৈতিক জল্পনার কেন্দ্রবিন্দু। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশচিক বরাইকের পথ ধরেই কি এ বার বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন কোয়েল?
সূত্রের খবর, প্রথমে ইমেলের মাধ্যমে পদত্যাগপত্র পাঠালেও, সংসদের নিয়ম মেনে বৃহস্পতিবার সশরীরে রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করে ইস্তফাপত্র জমা দেন কোয়েল। আগামী ২০ জুলাই রাজ্যসভার অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা ছিল। সাংসদ হিসেবে সেটিই হওয়ার কথা ছিল তাঁর প্রথম অধিবেশন। কিন্তু সংসদে এক দিনও না গিয়ে তার আগেই সাংসদ পদ ছেড়ে দিলেন তিনি।
সবচেয়ে বেশি চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে পদত্যাগের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ। বিজেপি সূত্র অবশ্য একে সৌজন্য সাক্ষাৎ বলেই ব্যাখ্যা করেছে। কিন্তু রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সময় এবং ঘটনাক্রম অন্য ইঙ্গিত দিচ্ছে। কারণ, সম্প্রতি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়া সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশচিক বরাইকও পদত্যাগের পর অল্প সময়ের মধ্যেই গেরুয়া শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই কোয়েলকে ঘিরে জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে।
চলতি বছরের মার্চের শেষ দিকে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন কোয়েল। পরে তাঁকে রাজ্যসভার প্রার্থী করে দল। এপ্রিলে সাংসদ হিসেবে শপথও নেন। শপথের পর তিনি বলেছিলেন, দেশের সেবা করার সুযোগ পেয়ে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছেন। কিন্তু রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই তাঁর অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার সেই জল্পনারই বাস্তব রূপ দেখা গেল পদত্যাগের মাধ্যমে।
তৃণমূলের সঙ্গে কোয়েলের রাজনৈতিক সম্পর্কের সূত্রপাতও ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। রাজ্যসভা নির্বাচনের আগে মল্লিক পরিবারের বাড়িতে গিয়ে অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিকের সঙ্গে দেখা করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে রাজ্যসভার প্রার্থী তালিকায় জায়গা পান কোয়েল। সেই সময় প্রকাশ্যে তৃণমূলের প্রশংসাও করেছিলেন তিনি। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই সেই সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে গেল।
কোয়েলের পদত্যাগে রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা আরও কমল। দলীয় সূত্রে ইতিমধ্যেই আরও এক সাংসদের পদত্যাগের সম্ভাবনা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে। তা হলে উচ্চকক্ষে তৃণমূলের শক্তি আরও কমবে।
এখন রাজনৈতিক মহলের নজর একটাই প্রশ্নে, পদত্যাগের পর ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে সাক্ষাৎ কি শুধুই সৌজন্য? নাকি সেটিই বিজেপিতে কোয়েল মল্লিকের যোগদানের পূর্বাভাস? উত্তর মিলতে হয়তো আর বেশি অপেক্ষা করতে হবে না।