নিউ ইয়র্ক: বহু মানুষের কাছে ফ্রাইড চিকেন মানেই প্রিয় খাবার। কিন্তু সেই চিকেনে এক কামড় দিয়েই যে এমন বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হবে, তা কল্পনাও করেননি এক মার্কিন ক্রেতা। আদালতে দায়ের করা মামলায় তাঁর অভিযোগ, জনপ্রিয় ফাস্ট ফুড চেইন Popeyes-এর একটি আউটলেট থেকে কেনা চিকেন খাওয়ার সময় মুখে অস্বাভাবিক একটি বস্তু অনুভব করেন। সেটি মুখ থেকে বের করার পর দেখেন, বস্তুটি দেখতে অনেকটাই কন্ডোমের মতো। এই ঘটনার পরই তিনি সংস্থার বিরুদ্ধে ১৫ লক্ষ মার্কিন ডলার (প্রায় ১৩ কোটি টাকা) ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা করেছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে নিউ ইয়র্কের একটি Popeyes রেস্তরাঁয় খাবার কেনার পর। বাড়িতে নিয়ে গিয়ে চিকেনে কামড় দিতেই তাঁর মুখে রাবারের মতো কিছু লাগে। প্রথমে বিষয়টি গুরুত্ব না দিলেও পরে বস্তুটি বের করে তিনি স্তম্ভিত হয়ে যান। অভিযোগ, ওই বস্তুটি দেখতে কন্ডোমের মতো হওয়ায় তিনি তীব্র মানসিক ধাক্কা খান। সঙ্গে সঙ্গে তাঁর বমি শুরু হয় এবং পরে দীর্ঘ সময় ধরে আতঙ্ক, মানসিক অস্বস্তি ও ঘৃণাবোধে ভুগতে থাকেন।
এরপরই তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। মামলায় দাবি করা হয়েছে, খাদ্য প্রস্তুতি ও মান নিয়ন্ত্রণে চরম গাফিলতির জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে। নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পরিবেশন করা যে কোনও খাদ্য সংস্থার আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে Popeyes। তাই শুধু শারীরিক নয়, মানসিক যন্ত্রণা, চিকিৎসা ব্যয় এবং ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ১৫ লক্ষ ডলার ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে।
যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেনি Popeyes। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। কীভাবে এমন একটি বস্তু খাবারের মধ্যে এল, তা জানতে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়েছে। সংস্থার দাবি, তাদের প্রতিটি রেস্তরাঁয় কঠোর খাদ্য-নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা হয়। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা এ বিষয়ে আর কোনও মন্তব্য করতে রাজি নয়।
এই ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই খাদ্য-নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আবার অনেকে তদন্তের ফলাফল সামনে আসার আগে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না বলেও মত দিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক ফাস্ট ফুড সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ খাবার পরিবেশন করা হয়। ফলে উৎপাদন, প্যাকেজিং এবং পরিবেশনের প্রতিটি ধাপে কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি। সামান্য একটি ত্রুটিও শুধু কোনও সংস্থার সুনাম নষ্ট করে না, ভোক্তাদের আস্থাকেও বড় ধাক্কা দেয়।
এখন নজর আদালতের দিকে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে শুধু মোটা অঙ্কের ক্ষতিপূরণই নয়, সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে আরও বড় আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হতে পারে।