নিউজ ডেস্ক: বিমানের চাকা রানওয়ে ছুঁয়ে এগোনোর সময় কিংবা মাঝআকাশে ওড়ার মুহূর্তে যাত্রীদের সিটবেল্ট বেঁধে নিজের আসনে স্থির থাকার কড়া নির্দেশ ঘোষণা করা হয়। বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে এই নিয়ম বাধ্যতামূলক ও মৌলিক সুরক্ষাবিধি কিন্তু সেই নির্দেশিকাকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চলন্ত বিমানের ভিতরেই যাত্রীদের আইলে দাঁড়িয়ে থাকার এক চাঞ্চল্যকর দৃশ্য সামনে এল।
এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের একটি বিমানে যাত্রীদের এমন অসুরক্ষিত অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকার ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই বিমান সংস্থার যাত্রী-সুরক্ষার মান ও নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অমিতাভ নামের এক যাত্রীর পোস্ট ও ভিডিও অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের IX 1236 নম্বর বিমানে।
দেখুন: https://x.com/the_news_21/status/2102042047221993493?s=20
ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, বিমানটি যখন সচল অবস্থায় রানওয়ে ধরে এগোচ্ছে, ঠিক তখনই বিমানের মাঝখানের সরু গলিপথে বা আইলে বেশ কয়েকজন যাত্রী দাঁড়িয়ে রয়েছেন। তাঁদের আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় এবং কেবিন ক্রু বা কর্মীদের তরফে তাঁদের অবিলম্বে নিজ নিজ আসনে বসানোর কোনো কড়া তৎপরতা চোখে পড়েনি। ভিডিওটি শেয়ার করে সংশ্লিষ্ট যাত্রী সরাসরি এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসকে কাঠগড়ায় তুলে ব্যঙ্গাত্মক সুরে প্রশ্ন তোলেন যাত্রীরা যখন দাঁড়িয়ে রয়েছেন, তখনও বিমান চলছে, এটাই কি বিমান সংস্থার নিরাপত্তার মানদণ্ড?
নেটিজেনদের বড় অংশের মতে, ট্যাক্সি করার সময় বা উড়ানের মুখে হঠাৎ ব্রেক কষলে বা ঝাঁকুনি হলে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীরা বড়সড় দুর্ঘটনার শিকার হতে পারতেন। বিশেষ করে বয়স্ক ও শিশুদের ক্ষেত্রে এটি মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারত। বিমান সুরক্ষার এমন চরম অবহেলা নিয়ে ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশন-এর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন বহু মানুষ। তুমুল বিতর্কের মুখে তড়িঘড়ি জবাব দিয়েছে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসও।
সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তারা জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান শুরু করা হয়েছে। তবে উড়ান চলাকালীন এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি কেন তৈরি হলো এবং কেবিন কর্মীদের নজরদারি কোথায় শিথিল ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। যাত্রীদের জীবনের সুরক্ষায় যেখানে প্রতিটি সেকেন্ডের নিয়ম কঠোরভাবে মানা উচিত, সেখানে এমন শিথিলতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেই দাবি অনেকের।