২১ জুলাইয়ের কর্মসূচির আগে কালীঘাট তৃণমূলে ফের এক বড় ধাক্কা। দলের দক্ষিণ কলকাতা জেলার চেয়ারম্যান এবং রাজ্যের প্রাক্তন বিদ্যুৎমন্ত্রী মণীশ গুপ্ত রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, শুধু তৃণমূল কংগ্রেস নয়, সক্রিয় রাজনীতিই ছেড়ে দিচ্ছেন। যদিও দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও পদত্যাগপত্র জমা দেননি বলে সূত্রের খবর।
বৃহস্পতিবার নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে মণীশ গুপ্ত বলেন, গত পাঁচ বছর ধরে তাঁকে কার্যত কোনও রাজনৈতিক দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। তাঁর কথায়, “আমি তৃণমূলে এলেও আমাকে গত পাঁচ বছর ধরে বসিয়ে রাখা হয়েছে। আমাকে ব্যবহার করা হয়নি। আক্ষেপ বলব না, তবে এই ধরনের অনেক কারণ তো রয়েছেই। তার সঙ্গে বয়সও একটা বড় বিষয়। তাই তৃণমূল ছাড়ছি, রাজনীতিও ছেড়ে দিচ্ছি।”
নিজের ৮৫ বছর বয়সের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “আর রাজনীতি করব না বলে ঠিক করেছি। আমি কোনও শিবিরে নেই। আমি রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
মণীশ গুপ্তের রাজনৈতিক জীবন দীর্ঘ ও ঘটনাবহুল। ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই মহাকরণ অভিযানের সময় তিনি রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব ছিলেন। সেই আন্দোলনে পুলিশি গুলিচালনার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর নাম দীর্ঘদিন বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল। পরে ২০১১ সালে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। এরপর তাঁকে বিধায়ক করা হয় এবং রাজ্যের বিদ্যুৎমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রশাসনের শীর্ষপদ থেকে সরাসরি তৃণমূলে যোগদান এবং মন্ত্রিত্ব পাওয়াকে ঘিরে সে সময়ও রাজনৈতিক মহলে বিস্তর আলোচনা হয়েছিল।
এবার সেই মণীশ গুপ্তই ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের আগে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা করায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
এদিন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসাও করেন মণীশ গুপ্ত। তিনি বলেন, “এখন যিনি মুখ্যমন্ত্রী, শুভেন্দু অধিকারী, তিনি অত্যন্ত দক্ষ প্রশাসক। আশা করি, বাংলাকে তিনি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবেন।”
তাঁর এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে, তবে কি তিনি ভবিষ্যতে বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন? যদিও এ বিষয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করতে চাননি মণীশ গুপ্ত। বরং তিনি জানান, কোনও রাজনৈতিক শিবিরে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা তাঁর নেই এবং সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।