গত দু-মাসেরও বেশী সময় ধরে চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বাংলার 'প্রাক্তন শাসক দল'। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একদা বিশ্বস্ত সেনাপতিদের অনেকেই একে একে দল ছেড়েছেন। এই কঠিন সময়েও যারা দলনেত্রীর পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁদের অন্যতম কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। তবে রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন, এবার হয়তো তিনিও ‘আসল তৃণমূল’ অর্থাৎ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার শিবিরে যোগ দিতে চলেছেন। আর এই জল্পনা উস্কে দিয়েছে মঙ্গলবার রাতে এন্টালির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক স্বর্ণকমল সাহার বাড়িতে মদন মিত্রের এক গোপন বৈঠক। তৃণমূলের সাম্প্রতিক এই টালমাটাল পরিস্থিতির নেপথ্যে মূল কারিগর ধরা হচ্ছে ঋতব্রত ও সন্দীপনকে। মঙ্গলবার দুপুরে সন্দীপনের স্ত্রী ও সন্তানদের ইডি তলব করার পরেই, রাতে তাঁর তালতলার বাসভবনে ছোটেন মদন মিত্র। সেখানে সন্দীপনের বাবা স্বর্ণকমল সাহার সঙ্গে প্রায় দু-ঘণ্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন তিনি। পুরনো বন্ধুত্বের খাতিরে এই সাক্ষাৎ বলে দাবি করা হলেও, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এর গুরুত্ব অপরিসীম।
যদিও সেই রাতে সন্দীপনের সঙ্গে মদন মিত্রের সরাসরি দেখা হয়নি, তবে ফোনে তাঁদের কথা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে সন্দীপন সাহা জানান, “মদন দা অত্যন্ত বড় মাপের নেতা ও দক্ষ সংগঠক। ফোনে কথা হয়েছে, উনি দেখা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। সামনাসামনি কথা হলেই ওঁর রাজনৈতিক অবস্থান এবং আমাদের শিবিরে আসার বিষয়টি স্পষ্ট হবে।” সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, আজ বুধবারও তাঁদের মধ্যে ফোনালাপ হতে পারে, যা মদন মিত্রের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণে অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে। অন্যদিকে, আজই আনুষ্ঠানিকভাবে ঋত-শিবিরে যোগ দিতে চলেছেন বীরভূমের প্রভাবশালী নেতা অনুব্রত মণ্ডল। বিধানসভায় ঋতব্রতর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর বিকেলে তপসিয়ায় জাভেদ খানের কার্যালয়ে একুশে জুলাইয়ের প্রস্তুতি বৈঠকে অংশ নিতে পারেন অনুব্রত। সব মিলিয়ে, একের পর এক হেভিওয়েট নেতার দলত্যাগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের সাজানো সংগঠন এখন অস্তিত্বের সংকটে।