পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে এবার নতুন মোড়। তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের পরিবারের সদস্যদেরও তদন্তের আওতায় আনল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। তদন্তকারী সংস্থা মদন মিত্রের স্ত্রী অর্চনা মিত্র এবং দুই ছেলে স্বরূপ মিত্র ও শুভরূপ মিত্রকে তলব করেছে। আগামী ২২ ও ২৩ জুলাই তাঁদের সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে অবস্থিত ইডি দপ্তরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত মদন মিত্র বা তাঁর পরিবারের কোনও সদস্যের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। ইডি সূত্রে অনুমান, পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় পাওয়া কিছু তথ্যের ভিত্তিতেই মদন মিত্রের পরিবারের আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রাজ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসার পরই বিভিন্ন পুরসভায় নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, যোগ্য প্রার্থীদের বঞ্চিত করে বেআইনিভাবে অযোগ্যদের চাকরি দেওয়া হয়েছে। সেই মামলায় তৎকালীন একাধিক প্রভাবশালী নেতা, মন্ত্রী ও বিধায়কের নাম উঠে আসে। তাঁদের মধ্যেই অন্যতম ছিলেন মদন মিত্র।
এই মামলায় এর আগেও একাধিকবার মদন মিত্রের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালিয়েছে ইডি। তাঁকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। তদন্তে তিনি সহযোগিতা করেছেন বলেই জানা গিয়েছে। তবে এবার তদন্তের পরিধি আরও বাড়িয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যদের আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখতে চাইছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, পুরনিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত অর্থের একটি অংশ পরিবারের সদস্যদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হয়ে থাকতে পারে। বিশেষ করে সুজিত বসুর বিরুদ্ধে তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতেই এই সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে বলে ইডি সূত্রের দাবি।
ইডির দাবি, সুজিত বসুর জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য সামনে এসেছে, যাতে দেখা যাচ্ছে তাঁর বিপুল পরিমাণ সম্পদের একটি বড় অংশ স্ত্রীর নামে বা তাঁর অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, নিজের আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদের উৎস গোপন করতে স্ত্রীর অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হয়েছিল। ইতিমধ্যেই সুজিত বসুর বিরুদ্ধে চার্জশিটও জমা দিয়েছে ইডি।
সেই তদন্তের সূত্র ধরেই এবার মদন মিত্রের পরিবারের আর্থিক নথি, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং লেনদেনের তথ্য খতিয়ে দেখতে চাইছে তদন্তকারী সংস্থা। মদন মিত্রের স্ত্রী অর্চনা মিত্র গৃহবধূ। দুই ছেলে স্বরূপ ও শুভরূপ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। এছাড়া পরিবারের এক পুত্রবধূ মেঘনা কামারহাটি পুরসভার কাউন্সিলর।
তদন্তকারীদের নজরে এখন পরিবারের সদস্যদের আর্থিক লেনদেন ও সম্পত্তির উৎস। সেই কারণেই আগামী সপ্তাহে তাঁদের ইডি দপ্তরে ডেকে পাঠানো হয়েছে। তদন্তে তাঁরা কী তথ্য দেন এবং সেই জেরার ভিত্তিতে মামলার তদন্ত কোন দিকে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে তদন্তকারী সংস্থার।