কলকাতা: রথযাত্রা মানেই বাঙালির কাছে দুর্গাপুজোর কাউন্টডাউন শুরু। কুমোরটুলিতে প্রতিমার গায়ে পড়তে শুরু করে মাটির প্রলেপ, পাড়ায় পাড়ায় শুরু হয় থিম, মণ্ডপ, আলোকসজ্জা আর বাজেটের অঙ্ক কষা। সেই আবহেই এবার সবচেয়ে বড় চর্চা— রাজ্য সরকারের দুর্গাপুজোর অনুদান।
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, এ বছর অনুদানের পরিমাণ বাড়িয়ে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা করা হতে পারে। তবে শুধু অনুদানের অঙ্কই নয়, এবার নজরে আরও বড় প্রশ্ন— সব পুজো কমিটি কি সরকারি সাহায্য পাবে? নাকি বদলে যাবে অনুদান বণ্টনের নীতি?
নবান্ন সূত্রে খবর, অনুদানের অঙ্ক বৃদ্ধির পাশাপাশি কোন পুজো কমিটি সরকারি সহায়তা পাবে, তা নিয়েও চলছে বিস্তারিত পর্যালোচনা। পালাবদলের বাংলায় নতুন সরকারের অবস্থান, সরকারি অর্থ এমন পুজো কমিটির কাছেই পৌঁছানো উচিত, যাদের সত্যিই তার প্রয়োজন। ফলে অতীতের মতো সব কমিটির জন্য এক নীতি বজায় থাকবে কি না, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
এই জল্পনার মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বিগত বছরগুলিতে অনুদান পাওয়া সব পুজো কমিটি এবার সেই সুবিধা পাবে না। তাঁর বক্তব্য, "যেসব কমিটি সরকারি অনুদানের উপর নির্ভর করে পুজোর আয়োজন করে, তাদের টাকা দেওয়া হবে। যাদের প্রয়োজন নেই, তারা পাবে না।" মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর থেকেই স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে, কোটি কোটি টাকার বাজেট, বড় কর্পোরেট স্পনসর বা বিপুল নিজস্ব আয়ের উপর নির্ভরশীল দুর্গাপুজোগুলি এবার সরকারি অনুদানের তালিকার বাইরে চলে যেতে পারে। অন্যদিকে, ছোট ও মাঝারি বাজেটের সর্বজনীন পুজোগুলিই সরকারি সহায়তার আওতায় থাকবে বলে প্রশাসনিক মহলের একাংশের ধারণা।
২০১৮ সালে দুর্গাপুজো কমিটিগুলির জন্য সরকারি অনুদান চালু হয়। শুরুতে সেই অঙ্ক ছিল মাত্র ১০ হাজার টাকা। এরপর ধাপে ধাপে তা বাড়তে বাড়তে গত বছর পৌঁছয় ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকায়। শুধু অনুদান নয়, বিদ্যুতের বিলে বিশেষ ছাড়, দমকল-সহ একাধিক সরকারি ফি-তেও ছাড় দেওয়া হয়েছিল। ফলে রাজ্যের কয়েক হাজার সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটি এই সুবিধার আওতায় আসে।
এবার সেই নীতিতে পরিবর্তনের সম্ভাবনাই জোরালো হয়েছে। প্রশাসনের একাংশের মতে, সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ও বিপুল বাজেটের পুজো কমিটির পরিবর্তে অপেক্ষাকৃত ছোট ও প্রয়োজনভিত্তিক পুজোগুলির উপর জোর দেওয়াই যুক্তিযুক্ত। তবে কোন মানদণ্ডে একটি পুজো কমিটিকে 'ধনী' হিসেবে চিহ্নিত করা হবে, কত টাকার বাজেট হলে অনুদান মিলবে না কিংবা কীভাবে সেই তালিকা তৈরি হবে— সে বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি নির্দেশিকা প্রকাশিত হয়নি।
ফলে রথের পর থেকেই যখন রাজ্যজুড়ে দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি গতি পেয়েছে, তখন পুজো উদ্যোক্তাদের নজর এখন নবান্নের দিকেই। অনুদান কি সত্যিই বেড়ে হবে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা? আর সেই অনুদান কি সবার জন্য, নাকি শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় পুজো কমিটিগুলির জন্য? এই দুই প্রশ্নের উত্তরই পেতে সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে তাকিয়ে পুজো কমিটির উদ্যোক্তারা।