বারাসত: সামান্য অসতর্কতাই যে কত বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে, তারই এক মর্মান্তিক উদাহরণ বারাসতে। অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণের পর চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়েই গর্ভপাতের ওষুধ খেয়েছিলেন ৩১ বছরের এক তরুণী। তার পরেই শুরু হয় প্রবল রক্তক্ষরণ। ক্রমশ সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে শরীরে। অবস্থার এমন অবনতি হয় যে, তাঁকে কার্যত মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনতে হয় চিকিৎসকদের। বারাসত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসকদের টানা প্রায় দু'সপ্তাহের লড়াইয়ের পর অবশেষে বিপন্মুক্ত হন ওই তরুণী।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৩০ জুন গভীর রাতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে বারাসত মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়। জরুরি বিভাগে পৌঁছনোর সময় তাঁর রক্তচাপ ছিল অত্যন্ত কম। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের জেরে শরীরে রক্তের পরিমাণও আশঙ্কাজনকভাবে কমে গিয়েছিল। প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা বুঝতে পারেন, অসম্পূর্ণ গর্ভপাতের কারণে জরায়ুতে মারাত্মক সংক্রমণ হয়েছে এবং সেই সংক্রমণ ধীরে ধীরে গোটা শরীরে ছড়িয়ে পড়ছে।
এক মুহূর্ত দেরি না করে রোগীকে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ, অ্যানাস্থেসিয়া, মেডিসিন এবং ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিভাগের চিকিৎসকদের নিয়ে গঠন করা হয় বিশেষজ্ঞ দল। রোগীর প্রাণ বাঁচাতে জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়। পাশাপাশি রক্ত দেওয়া, শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিক, নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা শুরু হয়।
অস্ত্রোপচারের পরেও বিপদ কাটেনি। সংক্রমণের জেরে শ্বাসকষ্ট বাড়তে থাকায় কয়েক দিন তাঁকে ভেন্টিলেশনে রাখতে হয়। চিকিৎসকদের কথায়, পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত সংকটজনক। কিন্তু চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং ধারাবাহিক চিকিৎসায় ধীরে ধীরে সাড়া দিতে শুরু করেন তরুণী। শেষ পর্যন্ত অবস্থার উন্নতি হওয়ায় তাঁকে ভেন্টিলেশন থেকে সরিয়ে সাধারণ ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সুস্থতার পথে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, সময়মতো সঠিক চিকিৎসা শুরু হওয়াতেই রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া গর্ভপাতের ওষুধ সেবন অত্যন্ত বিপজ্জনক। এতে অসম্পূর্ণ গর্ভপাত, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, মারাত্মক সংক্রমণ, সেপসিস, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। তাই এমন পরিস্থিতিতে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বারাসত মেডিক্যালের এই ঘটনা একদিকে যেমন সরকারি হাসপাতালের দক্ষতার প্রমাণ দিল, তেমনই সাধারণ মানুষের জন্য রেখে গেল গুরুত্বপূর্ণ বার্তা—নিজের ইচ্ছায় বা কারও পরামর্শে গর্ভপাতের ওষুধ খাওয়া কখনওই নিরাপদ নয়। একটি ভুল সিদ্ধান্ত মুহূর্তে জীবনকে ঠেলে দিতে পারে মৃত্যুর দোরগোড়ায়।