রোহিঙ্গা ও অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের। কোটি, কোটি টাকার মানবপাচার ও জাল নথি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযান চালাল ইডি। বৃস্পতিবার রাজ্যের কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও মুর্শিদাবাদ-সহ দেশের মোট ১৩ টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই বাংলার বুকেই গড়ে উঠেছিল একটি সুসংগঠিত জাল নথি তৈরির চক্র। অভিযোগ, অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে আসা রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি নাগরিকদের মোটা টাকার বিনিময়ে আধার, ভোটার কার্ড, প্যান কার্ড, ই-শ্রম কার্ড-সহ একাধিক ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে দেওয়া হতো। আর সেই নথির উপর ভিত্তি করে দালালদের হাত ধরে অনুপ্রবেশকারীরা ঢুকে পরতো বাংলায়। এরপরই শ্রমিক পরিচয় তাদেরকে পাঠানো হতো কর্নাটক, তামিলনাড়ু, পঞ্জাব, হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশে।
সম্প্রতি, উত্তরপ্রদেশ পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স মানবপাচারের বিরুদ্ধে একটি তদন্ত শুরু করেছিল। সেখানেই কলকাতা-সহ উত্তর ২৪ পরগনা ও মুর্শিদাবাদে সক্রিয় জাল নথি তৈরির বড় নেটওয়ার্কের সন্ধান পায়। আদালতেও উত্তরপ্রদেশ পুলিশ জানিয়েছে, বাংলা থেকে শ্রমিক সরবরাহের আড়ালে অনুপ্রবেশকারীদের সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল।
ইডির প্রাথমিক তদন্তে ভয়ঙ্কর তথ্য উঠে এসেছে। তদন্তকারীদের আশঙ্কা, তদন্তকারীদের সন্দেহ, এনজিওর আড়ালে মানবপাচার, জাল নথি তৈরি এবং বিপুল অঙ্কের অবৈধ আর্থিক লেনদেন চলত। মূল অভিযুক্তদের পরিচয় গোপন রাখতে ব্যবহার করা হতো একাধিক ভাড়ার অ্যাকাউন্ট। সেখানেই চলতো আর্থিক লেনদেন।এই মানবপাচার ও জাল নথি চক্রকে ঘিরে বহু কোটি টাকার অবৈধ অর্থের সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে, যার গুরুত্বপূর্ণ শিকড় পশ্চিমবঙ্গে বলে দাবি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের। এই জাল চক্রের সঙ্গে যুক্ত মূল অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে ইডি।
ইতিপূর্বে বাংলাদেশ থেকে নারী ও নাবালিকা পাচার চক্রের তদন্তে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ বনগাঁ সীমান্ত এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের সঙ্গে যুক্ত জাল নথি তৈরির নেটওয়ার্কের অস্তিত্বের ইঙ্গিত পেয়েছিল। এবার সেই একই ভাবে অনুপ্রবেশকারীদের অবৈধ জাল ছিন্ন করতে তৎপর ইডি।