নিজস্ব প্রতিবেদন: সিঙ্গাপুর— নামটার মধ্যেই যেন লুকিয়ে রয়েছে সাফল্য, আধুনিকতা আর উচ্চমানের জীবনযাপনের প্রতিশ্রুতি। উন্নত পরিকাঠামো, নিরাপদ পরিবেশ, বিশ্বমানের কর্মসংস্থান এবং মোটা বেতনের টানে প্রতিবছর হাজার হাজার ভারতীয় এই দ্বীপরাষ্ট্রে পাড়ি দেন। কিন্তু সেই স্বপ্নপূরণের মূল্য কত? উত্তরটা শুনলে অনেকেরই চোখ কপালে উঠতে পারে। এক ভারতীয় ইনফ্লুয়েন্সারের প্রকাশ করা মাসিক খরচের হিসাব এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছে। তাঁর দাবি, সিঙ্গাপুরে একা থেকে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে মাসে খরচ হয় প্রায় ৩ লক্ষ টাকা।
ভিডিওতে তিনি খরচের প্রতিটি খাত তুলে ধরেছেন। সবচেয়ে বড় অঙ্কটি যায় বাড়িভাড়ায়। শহরের কেন্দ্রস্থলে এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া ভারতীয় মুদ্রায় এক লক্ষ টাকারও বেশি হতে পারে। অপেক্ষাকৃত দূরের এলাকায় থাকলেও ভাড়া কমে খুব বেশি স্বস্তি মেলে না। তাই অনেক প্রবাসী ভারতীয় খরচ বাঁচাতে শেয়ারড ফ্ল্যাটে থাকার পথ বেছে নেন।
বাড়িভাড়ার পরেই রয়েছে দৈনন্দিন জীবনের নিত্য খরচ। বিদ্যুৎ, জল, ইন্টারনেট, মোবাইল সংযোগ, গণপরিবহণ, স্বাস্থ্যবিমা, বাজার, বাইরে খাওয়াদাওয়া, ব্যক্তিগত প্রয়োজন এবং অবসর কাটানোর ব্যয়— সব মিলিয়ে মাসের শেষে অঙ্কটা দ্রুত বেড়ে যায়। ইনফ্লুয়েন্সারের বক্তব্য, সিঙ্গাপুরে আয় বেশি হলেও খরচের গতিও সমান দ্রুত। ফলে সঠিক আর্থিক পরিকল্পনা না থাকলে মাসের শেষে সঞ্চয় করা কঠিন হয়ে পড়ে।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর মতভেদ স্পষ্ট। একাংশের দাবি, মাসে তিন লক্ষ টাকা খরচ অবিশ্বাস্য। আবার অন্যদের বক্তব্য, সিঙ্গাপুরের বাস্তব পরিস্থিতি জানলে এই অঙ্ক মোটেই অস্বাভাবিক মনে হবে না। বিশেষ করে যাঁরা একা থাকেন এবং শহরের কেন্দ্রের কাছাকাছি বাস করেন, তাঁদের মাসিক ব্যয় সহজেই এই সীমায় পৌঁছে যেতে পারে।
আন্তর্জাতিক সমীক্ষাগুলিও বলছে, বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরগুলির তালিকায় সিঙ্গাপুর প্রায় প্রতি বছরই শীর্ষ সারিতে থাকে। সীমিত জমি, বিপুল আবাসন চাহিদা, উন্নত নাগরিক পরিষেবা এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে শহরটির গুরুত্ব— সব মিলিয়ে এখানকার জীবনযাত্রার খরচ স্বাভাবিকভাবেই বেশি। তবে একই সঙ্গে এখানকার বেতন কাঠামোও অনেক উন্নত। তথ্যপ্রযুক্তি, আর্থিক পরিষেবা, চিকিৎসা, গবেষণা এবং প্রকৌশল-সহ একাধিক ক্ষেত্রে কর্মরতদের আয় ভারতের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি হওয়ায় এই ব্যয় বহন করা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয়।
প্রবাসী ভারতীয়দের একাংশ অবশ্য বলছেন, সচেতনভাবে পরিকল্পনা করলে খরচ অনেকটাই কমানো যায়। বাড়িতে রান্না করা, ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে এমআরটি ও বাস ব্যবহার করা, অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা এড়ানো এবং শেয়ারড আবাসনে থাকলে মাসিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। অর্থাৎ, জীবনযাত্রার ধরনই নির্ধারণ করে শেষ পর্যন্ত কত টাকা খরচ হবে।
তবে এই ভাইরাল ভিডিও আরও একবার মনে করিয়ে দিয়েছে, বিদেশে মোটা বেতনের চাকরির স্বপ্ন দেখার আগে শুধুমাত্র বেতনের অঙ্ক নয়, সংশ্লিষ্ট দেশের জীবনযাত্রার প্রকৃত ব্যয়, সঞ্চয়ের সম্ভাবনা এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনার দিকেও সমান নজর দেওয়া প্রয়োজন। কারণ, সিঙ্গাপুরের মতো শহরে আয় যতটা আকর্ষণীয়, ব্যয়ের অঙ্কও ততটাই বিস্ময়কর।