নিউজ ডেস্ক: রোজ সকালে ঠাকুমা ব্যাগ থেকে চকচকে কাগজ বের করে দোকানে যান, আর ফিরে আসেন দুধ-বিস্কুট নিয়ে। নিত্যদিনের এই লেনদেন যে আড়চোখে নিখুঁতভাবে পর্যবেক্ষণ করছিল বাড়ির ছোট্ট সদস্যটি, তা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি বাড়ির লোক। অবশেষে সুযোগ বুঝে ঠাকুমার টাকার ব্যাগ হাত সাফাই করে সোজা পাড়ার মুদির দোকানে হাজির সেই পোষ্য!
মুখে ঝুলছে একটি খাঁটি ৫০০ টাকার নোট। অবলা জীবের এমন অবিশ্বাস্য উপস্থিত বুদ্ধি ও কাণ্ডের দৃশ্য ছড়িয়ে পড়তেই হাসির রোল উঠেছে সামাজিক মাধ্যমে।
সম্প্রতি সমাজ মাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একটি পোষ্য মুখে ৫০০ টাকার কড়কড়ে নোটটি সাবধানে কামড়ে ধরে দোকানের কাউন্টারের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। তার শান্ত চোখদুটি তাকিয়ে রয়েছে দোকানির দিকে, যেন স্পষ্ট দাবি 'নোট দিয়েছি, এবার আমার পছন্দের খাবারটি বের করো!'
দেখুন: https://x.com/dks_230/status/2101874323921445161
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঠাকুমা যখনই তার জন্য খাবার আনতে যেতেন, এই খুদে পোষ্যটি তখন থেকেই বিষয়টি মন দিয়ে খেয়াল করত। মানুষ কীভাবে টাকা দিয়ে জিনিস কেনে, সেই পুরো ছকটাই যেন সে নিজের মগজে গেঁথে নিয়েছিল।
দোকানে এসে তার এমন কাণ্ড দেখে তো প্রথমে হতভম্ব হয়ে যান দোকানদার। সারমেয়র মুখে ৫০০ টাকার নোট দেখে উপস্থিত অন্য ক্রেতারাও তাজ্জব বনে যান।
নোটটিতে যাতে বিন্দুমাত্র টান না লাগে বা ছিঁড়ে না যায়, সেদিকেও অবলা প্রাণীটির ছিল নিখুঁত খেয়াল। পরে বাড়ির লোকজন খুঁজতে খুঁজতে দোকানে পৌঁছালে ফাঁস হয় আসল রহস্য। ঠাকুমা ব্যাগ খুলে রেখে একটু অন্যমনস্ক হতেই মুখ দিয়ে সেই নোট বের করে নিয়ে একেবারে ‘স্বাধীন ক্রেতা’র মতো কেনাকাটা করতে বেরিয়ে পড়েছিল সে।
ভিডিওটি ভাইরাল হতেই রসিক মন্তব্যে ভরিয়ে দিচ্ছেন নেটিজেনরা। কেউ লিখছেন, "একে বলে স্বাবলম্বী পোষ্য! কারও ওপর নির্ভর না করে নিজেই কেনাকাটা সেরে নিচ্ছে।" আবার কারও মন্তব্য, "ঠাকুমার পুরো সিস্টেমটাই তো হ্যাক করে নিয়েছে ডগেশ ভাই!" আবার প্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, কুকুরদের পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা এবং মানুষের আচরণ নকল করার সহজাত প্রবণতা অত্যন্ত প্রখর।