ক্যানিং, নিউজ ডেস্ক: একবার নয়, দুবার নয়, বার বার এসেছে তদন্তকারীদের ডাক। কিন্তু প্রতিবারই কোনও না কোনও কারণে বদলে গিয়েছে পরিস্থিতি। কখনও অসুস্থতা, কখনও বিধানসভার ব্যস্ততা ,আবার কখনও চিকিৎসার কারণ সামনে এসেছে। এবার অবশ্য আর কোনও নতুন তারিখ নয় নির্দিষ্ট দিনেই হাজিরার নির্দেশ। ভবানী ভবনের দিকে আজ নজর থাকবে ক্যানিং থেকে কলকাতা পর্যন্ত। ফের তদন্তকারীদের ডাকে সাড়া দিতে চলেছেন এক বিধায়ক।
ক্যানিং পশ্চিমের বিধায়ক পরেশরাম দাসকে চতুর্থ বারের মত তলব করেছেন সিআইডি। ২১ সেপ্টেম্বর ভবানী ভবনে তাঁকে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে খবর, দুপুর বারোটার মধ্যে তাঁকে হাজির থাকার নির্দেশ জানানো হয়েছে। এর আগে একই মামলায় তাঁকে তিনবার নোটিশ পাঠানো হলেও তিনি হাজির থাকতে পারেননি। বিধায়কের তরফে জানানো হয়েছে, শারীরিক অসুস্থতা এবং বিধানসভার কর্মব্যস্ততা সহ বিভিন্ন কারণে জন্য আগের বারে হাজির থাকতে পারেননি তিনি। চিকিৎসার জন্য চেন্নাই যাওয়ার পর সেখান থেকে ফিরে তিনি সিআইডিকে ইমেইল করেছিলেন বলেও জানা গিয়েছে। এই যোগাযোগের পরই ফের হাজিরা জন্য নতুন তারিখ দেওয়া হয়।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনকে ঘিরে ক্যানিং এলাকায় রাজনৈতিক অশান্তির অভিযোগ থেকে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগ উঠে। পরবর্তীতে এই ঘটনার তদন্তের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হন তৃণমূলের অপরপক্ষ। মামলাটির তদন্তভার যায় সিআইডির হাতে। তদন্তে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল বলেও জানা গিয়েছে । তদন্তের সেই সূত্রেই এবার পরেশরাম দাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে। তবে, সিআইডির তলব করা মানে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এমনটা নয়। তদন্তের অংশ হিসেবে তাঁর বক্তব্য এবং মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানতে চাওয়া হতে পারে।
এদিকে, বিধায়কের বক্তব্য তিনি তদন্তে সম্পূর্ণ সহায়তা করবেন। ব্যস্ততার কারণে আগের নির্দেশ গুলিতে হাজরা দিতে পারেননি বলে জানিয়েছেন তিনি। এবার নির্ধারিত দিনে ভবানী ভবনে গিয়ে তদন্তকারীদের মুখোমুখি হওয়ার কথাও জানান তিনি। ফলে, ২১ সেপ্টেম্বর হাজিরাকে ঘিরে নতুন করে নজর পড়েছে এই মামলার তদন্তে। বিধায়কের বক্তব্য জানার পর সিআইডি কি পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই নজর।