দক্ষিণ ২৪ পরগনার, নিউজ ডেস্ক: একটি সরকারি কাগজ হাতে আসতেই যেন থমকে গেল পরিবার। যে মানুষটি প্রতিদিনের মতো জীবিত, তাঁর নামের নথিতে উঠে এসেছে সম্পূর্ণ অন্য পরিচয়। শুধুমাত্র তাই নয় দীর্ঘদিনের জন্য বন্ধ হয়ে রয়েছে প্রাপ্য একটি সরকারি সুবিধাও। কাগজ-কলমে তাঁর পরিচয় নিয়ে উঠল এমন এক প্রশ্ন, যার উত্তর খুঁজতে ছুটতে হল প্রশাসনের দরজায়। তাহলে সরকারি নথীর এই গরমিল কিভাবে? দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমা এলাকায় এই প্রশ্ন ঘিরে শুরু হয়েছে একাধিক আলোচনা।
পাথরপ্রতিমা বিধানসভার আবাদ গঙ্গাধরপুরের সাত নম্বর বুথের একাধিক প্রবীণ মানুষের বার্ধক্য ভাতা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকার অভিযোগ উঠেছিল। স্থানীয়দের দাবি, আট থেকে দশ বছর ধরে এলাকায় বেশ কয়েকজন বৃদ্ধ ও বৃদ্ধা এই সরকারি ভাতা পাচ্ছেন না। তাঁদের পরিবারের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের কথায় ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও প্রশাসনিক ভাবে যাচাই করা হয়নি। এরইমধ্যে, সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে ৮০ বছরের গান্ধীবালা নাইয়াকে ঘিরে। পরিবারের দাবি, তিনি জীবিত থাকা সত্ত্বেও সরকারি নথিতে তাঁর নাম মৃত ব্যক্তিদের তালিকায় রয়েছে। বিষয়টি জানতে গান্ধীবালা তাঁর ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে বিডিও অফিসে গেলে নথিপত্র দেখে তাঁরা এই বিষয়টি জানতে পারেন বলে পরিবারের দাবি।
এরপর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে জীবিত একজন মানুষের নাম কিভাবে মৃতদের তালিকায় চলে গেল? শুধুমাত্র নথিতেই নয় দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বার্ধক্য ভাতা বন্ধ রয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ। ফলে, নথিপত্রের ভুলের সঙ্গে ভাতা বন্ধ হওয়ার কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে বৃদ্ধা গান্ধীবালার আক্ষেপ "কাদম্বরী মরিয়া প্রমাণ করিলেন, তিনি মরে নাই, সেভাবেই কি আমাকেও প্রমাণ করতে হবে"? তাঁর এই প্রশ্নেই যেন পুরো ঘটনার অসহায়তার কথা উঠে এসেছে।
তবে, গান্ধীবালা একা নন। স্থানীয়দের দাবি, একইভাবে আরও কয়েকজন বৃদ্ধ ও বৃদ্ধার বাধ্যক্য ভাতা বন্ধ রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা একাধিকবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েও সমস্যার সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ। পরিবারগুলির দাবি, দ্রুত তদন্ত করে সরকারি নথিপত্র যাচাই করা হোক। যারা জীবিত এবং ভাতা পাওয়ার যোগ্য ফের তাঁদের প্রাপ্য অর্থ চালু করা হোক। পাশাপাশি, গান্ধীবালার মতো জীবিত মানুষের নাম মৃতের তালিকায় কিভাবে গেল, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
সুন্দরবন বিধায়ক উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর জানা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক কারণে কেউ বঞ্চিত হয়ে থাকলে, তাঁরা প্রশাসনের কাছে এলে বিষয়টি যাচাই করে পুনরায় ভাতা পাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এখন, প্রশাসনের তদন্তেই স্পষ্ট হবে নথিপত্রের এই গরমিলের নেপথ্যে আসলে কি রহস্য।