উত্তরাখণ্ড: উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ে ফের ভয়াবহ সুড়ঙ্গ দুর্ঘটনা। নির্মীয়মাণ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আচমকা হুড়মুড়িয়ে ঢুকে পড়ল জল এবং ধ্বংসাবশেষ। মুহূর্তের মধ্যে বন্ধ হয়ে গেল সুড়ঙ্গের একাংশ। ভিতরে কাজ করছিলেন শ্রমিকেরা। আতঙ্কের মধ্যে শুরু হল উদ্ধার অভিযান। এখনও পর্যন্ত ছয় জন শ্রমিকের মৃত্যুর খবর মিলেছে। আহত ১৪ জন। আরও দু’জন শ্রমিক সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে রয়েছেন বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলার মায়াপুর-পিপলকোটির কাছে। সেখানে তেহরি হাইড্রো ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন (THDC)-এর একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য সুড়ঙ্গ নির্মাণের কাজ চলছিল। নির্মাণকাজের দায়িত্বে ছিল হিন্দুস্তান কনস্ট্রাকশন কোম্পানি (HCC)। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে পৌনে ৭টার মধ্যে আচমকাই বিপুল পরিমাণ জল ও পাথর-ধ্বংসাবশেষ সুড়ঙ্গের ভিতরে ঢুকে পড়ে।
প্রাথমিক হিসাবে, দুর্ঘটনার সময় সুড়ঙ্গের ভিতরে ছিলেন ২২ জন শ্রমিক। আচমকা জল ও ধ্বংসাবশেষ ঢুকে পড়ায় তাঁদের অনেকেই আটকে যান। উদ্ধারকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন। রাতভর চলে ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে শ্রমিকদের বের করে আনার চেষ্টা। ২০ জনকে সুড়ঙ্গ থেকে বার করা সম্ভব হলেও তাঁদের মধ্যে ছয় জনকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। ১৪ জন আহত শ্রমিককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগ এখন সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে থাকা দু’জনকে নিয়ে। তাঁদের কাছে পৌঁছতে ধ্বংসাবশেষ সরানোর পাশাপাশি সুড়ঙ্গের ভিতরে জমে থাকা জল বার করার কাজও চলছে। বিপজ্জনক পরিস্থিতির মধ্যেই উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যেরা। NDRF এবং SDRF-এর পাশাপাশি একাধিক নিরাপত্তা ও উদ্ধারকারী সংস্থাকে কাজে নামানো হয়েছে।
আহতদের গোপেশ্বরের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, উদ্ধারকাজে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এবং কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। চামোলির জেলাশাসক গৌরব কুমার জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরই প্রশাসনের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় এবং আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধারের উপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ দিকে, দুর্ঘটনার কারণ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। প্রাথমিক রিপোর্টে পাহাড়ের ধস, জল ঢুকে পড়া এবং সুড়ঙ্গের ভিতরে ধ্বংসাবশেষ জমার কথা উঠে এসেছে। প্রায় ২ কিলোমিটার দীর্ঘ নির্মীয়মাণ টেল রেস টানেলের একটি অংশে হঠাৎ জল ও ধ্বংসাবশেষ ঢুকে পড়েছিল বলে স্থানীয় রিপোর্টে জানা যাচ্ছে। তবে ঠিক কী কারণে এই বিপুল জল ও ধ্বংসাবশেষ সুড়ঙ্গে ঢুকল, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।
উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ি এলাকায় নির্মাণকাজ চলাকালীন এমন দুর্ঘটনা নতুন নয়। ফলে দুর্ঘটনার পর সুড়ঙ্গ নির্মাণের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে আপাতত তদন্তের আগে কোনও নির্দিষ্ট কারণ বা গাফিলতির অভিযোগ নিশ্চিত করা হয়নি।
রাত পেরিয়েও উদ্ধার অভিযান থামেনি। সুড়ঙ্গের অন্ধকারে আটকে থাকা দু’জন শ্রমিককে জীবিত অবস্থায় বার করে আনাই এখন উদ্ধারকারীদের প্রধান লক্ষ্য। ধ্বংসস্তূপের প্রতিটি স্তর সরিয়ে, জল পাম্প করে, ধীরে ধীরে ভিতরের দিকে এগোচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। পাহাড়ের বুকে সেই সুড়ঙ্গের মুখের দিকে এখন তাকিয়ে রয়েছে শ্রমিকদের পরিবার—আশা, ধ্বংসস্তূপ পেরিয়ে এখনও দু’জনকে জীবিত অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।