দীর্ঘ আইনি টালবাহানা এবং আদালতের তীব্র ভর্ৎসনার পর অবশেষে ‘ডিজে মামলায়’ নিজের কণ্ঠস্বরের নমুনা দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার নির্ধারিত সময়ের কিছুটা আগেই বিধাননগর আদালতে পৌঁছে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন তিনি।বিতর্কিত ডিজে মন্তব্যটি তাঁর নিজেরই ছিল— এ কথা আগেই স্বীকার করে নিয়েছিলেন অভিষেক। তবে সিআইডির তলবে একবার হাজিরা দিলেও, কণ্ঠস্বরের নমুনা দেওয়ার বিষয়টি এড়াতে তিনি কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। তাঁর আইনজীবীর যুক্তি ছিল, মন্তব্যটি যেখানে স্বীকার করাই হয়েছে, সেখানে নতুন করে কণ্ঠস্বর পরীক্ষার কী প্রয়োজন?
তবে হাই কোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে এই যুক্তি ধোপে টেকেনি। শুনানিতে অভিষেককে কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করে বিচারপতি সাফ জানান, তদন্তে সহযোগিতা না করলে তাঁর আইনি রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করা হবে, এমনকি মামলা খারিজ করে জরিমানাও করা হতে পারে। আদালতের এই অনড় মনোভাবের মুখে দাঁড়িয়ে সুর নরম করতে বাধ্য হন ‘যুবরাজ’। আত্মসমর্পণ করার আগে অভিষেকের তরফ থেকে আদালতে দুটি আবেদন জানানো হয়েছিল-- ১) এই মামলার জন্য সংগৃহীত কণ্ঠস্বর যেন অন্য কোনো মামলায় ব্যবহার না করা হয়। ২) ডিম’ যেন না ছোঁড়া হয় (তথা আইনি পরিভাষায় কোনো ফাঁদে যেন তাঁকে না ফেলা হয়, যাতে নিয়োগ দুর্নীতির মতো অন্যান্য মামলাতেও এই কণ্ঠস্বরকে হাতিয়ার করা যায়)।
আইনি সেই টানাপোড়েনের পর ১৫ জুলাই বিধাননগর আদালতে কণ্ঠস্বরের নমুনা দেওয়ার দিন ধার্য হয়। সেই মতো বুধবার কড়া নিরাপত্তা এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে বেলা পৌনে ১২টা নাগাদ বিধাননগর আদালতে পৌঁছন অভিষেক। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে নমুনা সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলার পর বেলা দেড়টা নাগাদ তিনি আদালত চত্বর ছেড়ে বেরিয়ে যান। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই বিতর্কিত পর্ব অবশেষে মিটল আদালতের কড়া হস্তক্ষেপেই।