JAZZBAAT 24 BANGLA
১৩ সেপ্টে ২০২৬, ১১:৩৯ পিএম
Breaking
বার্ধক্যের রুপোলি রোদ্দুর বেয়ে স্মৃতির অমল ধ্রুবতারা দিল্লিতে হিন্দু আধ্যাত্মিক নেতার বক্তব্য শুনলেন মাসুদ পেজেশকিয়ান, ভাইরাল ভিডিও নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর আসনে প্রার্থী ঘোষণা করল কালীঘাট তৃণমূল, কারা লড়বেন? ভোররাতে চলল গুলি, লক্ষ্য বিখ্যাত পঞ্জাবি গায়ক জোড়াফুল কার? মমতার পাশেই কমিশন! বড় দাবি কল্যাণের, চাপে কি ঋতব্রত শিবির? বাইক থামিয়ে ডাকাতির চেষ্টা, আসানসোলে গুলিবিদ্ধ নৈশপ্রহরী দাম বাড়লো নাকি কমলো, সোনা কেনার আগে জেনে নিন দর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে রাহুল-প্রিয়াঙ্কা, কী আলোচনা হল? বার্ধক্যের রুপোলি রোদ্দুর বেয়ে স্মৃতির অমল ধ্রুবতারা দিল্লিতে হিন্দু আধ্যাত্মিক নেতার বক্তব্য শুনলেন মাসুদ পেজেশকিয়ান, ভাইরাল ভিডিও নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর আসনে প্রার্থী ঘোষণা করল কালীঘাট তৃণমূল, কারা লড়বেন? ভোররাতে চলল গুলি, লক্ষ্য বিখ্যাত পঞ্জাবি গায়ক জোড়াফুল কার? মমতার পাশেই কমিশন! বড় দাবি কল্যাণের, চাপে কি ঋতব্রত শিবির? বাইক থামিয়ে ডাকাতির চেষ্টা, আসানসোলে গুলিবিদ্ধ নৈশপ্রহরী দাম বাড়লো নাকি কমলো, সোনা কেনার আগে জেনে নিন দর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে রাহুল-প্রিয়াঙ্কা, কী আলোচনা হল?

১৮ বছর পর ফের চর্চায় সিপিএমের অতীত-বর্তমানের অবস্থান

১৮ বছর পর ফের চর্চায় সিপিএমের অতীত-বর্তমানের অবস্থান

কলকাতা: নিজেকে বারবার ‘বামপন্থী’ বলেই পরিচয় দিয়েছেন তসলিমা নাসরিন। ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে তাঁর সোচ্চার অবস্থান, নারীর অধিকার নিয়ে আপসহীন লড়াই এবং ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে স্পষ্ট মত— সব মিলিয়ে বামপন্থী বুদ্ধিজীবী মহলের বড় অংশের কাছেই তিনি দীর্ঘদিন ছিলেন পরিচিত মুখ। কিন্তু পরিহাসের বিষয়, সেই তসলিমাকেই ২০০৭ সালে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের আমলে কলকাতা ছাড়তে হয়েছিল। প্রায় দুই দশক পরে তাঁর কলকাতা প্রত্যাবর্তনের প্রাক্কালে তাই নতুন করে উঠে আসছে প্রশ্ন— তসলিমাকে নিয়ে বামেদের অবস্থান কি বদলে গিয়েছে?

বাংলাদেশে মৌলবাদীদের ফতোয়ার মুখে ১৯৯৪ সালে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন তসলিমা। দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর ২০০৪ সালে কলকাতায় আশ্রয় নেন তিনি। বাংলা ভাষার শহরে স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্ন দেখেছিলেন। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি বামপন্থী বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক মহলের একাংশের সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিল।

কিন্তু ২০০৭ সালে আত্মজীবনীর তৃতীয় খণ্ড ‘দ্বিখণ্ডিত’ প্রকাশের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। কয়েকটি মৌলবাদী সংগঠন বইটির বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে। কলকাতায় বিক্ষোভ, অশান্তি এবং আইন-শৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কা তৈরি হয়। সেই পরিস্থিতিতে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট সরকার তসলিমাকে কলকাতা থেকে সরিয়ে দেয়। সরকারি যুক্তি ছিল— তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা।

কিন্তু এই সিদ্ধান্তই বাম সরকারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ও নৈতিক প্রশ্ন তুলে দেয়। সমালোচকদের অভিযোগ ছিল, যারা হুমকি দিচ্ছিল তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে একজন নির্বাসিত লেখিকাকেই কার্যত শহর ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে দাবি করা একটি সরকারের কাছে এই সিদ্ধান্ত ছিল আত্মসমর্পণের সামিল— এমন অভিযোগও উঠেছিল।

তসলিমা নিজেও সেই ঘটনার কথা বারবার স্মরণ করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, প্রায় সাড়ে চার মাস তাঁকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল। নিজেকে বামপন্থী বলেই পরিচয় দিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, "যাদের আদর্শের প্রতি আমার বিশ্বাস ছিল, তারাই কেন আমাকে রক্ষা করতে পারল না?" তাঁর ক্ষোভ ছিল, মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে নয়, বরং তাঁদের চাপে নতি স্বীকার করা প্রশাসনের বিরুদ্ধে।

তবে প্রায় ১৮ বছর পর ছবিটা কিছুটা বদলেছে। তসলিমার কলকাতা সফরকে ঘিরে সিপিএম নেতৃত্বের বক্তব্যে আগের তুলনায় স্পষ্টতই অন্য সুর শোনা যাচ্ছে। সিপিআই(এম) নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেছেন, কোনও লেখকের কণ্ঠস্বর রোধ করার অধিকার কারও নেই। অতীতে তসলিমাকে ঘিরে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং তাঁর বই নিষিদ্ধ হওয়ার ঘটনাও দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। অর্থাৎ, যে সিদ্ধান্ত একসময় বাম সরকারের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছিল, আজ সেই ঘটনাকে ঘিরে বাম নেতৃত্বের মধ্যেই আত্মসমালোচনার ইঙ্গিত মিলছে।

আগামী ১ অগস্ট রবীন্দ্র সদনে তসলিমা নাসরিনের উপস্থিতি তাই শুধু একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়। এটি পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক বিতর্কিত অধ্যায়েরও পুনর্মূল্যায়নের মুহূর্ত। একদিকে অতীতের সেই সিদ্ধান্ত, অন্যদিকে বর্তমানের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান— এই দুইয়ের মাঝখানেই দাঁড়িয়ে রয়েছে বামফ্রন্টের তসলিমা-অধ্যায়।

প্রশ্নটা তাই আজও রয়ে গেছে— যে লেখিকা নিজেকে বামপন্থী বলে পরিচয় দিয়েছেন, তাঁকেই কি শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় আঘাত দিয়েছিল বাম আমলের রাজনৈতিক বাস্তবতা? সেই প্রশ্নের উত্তর নিয়ে বিতর্ক এখনও শেষ হয়নি।

13 Views 0 Likes 0 Comments

Related News

বাইক থামিয়ে ডাকাতির চেষ্টা, আসানসোলে গুলিবিদ্ধ নৈশপ্রহরী
রাজ্য

বাইক থামিয়ে ডাকাতির চেষ্টা, আসানসোলে গুলিবিদ্ধ নৈশপ্রহরী

আসানসোল, নিউজ ডেস্ক: দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা! এরকম চরম নিদর্শনটি ঘটেছে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কে। ঘটনাস্থল আসানসোল।  শনিবার রাতে সেখানে ঘটে গিয়েছে একটি ভয়াবহ ডাকাতির চেষ্টা। রাতের অন্ধকারে নির্জন রাস্তায় বাইক চালাচ্ছিলে...

১৩ সেপ্টে ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম · 2 মিনিট
টেকনিশিয়ান থেকে ডাক্তার! ভুয়ো MBBS সার্টিফিকেটে অস্ত্রোপচার, বর্ধমানে ৫ ‘ভুয়ো চিকিৎসক’ ঘিরে চাঞ্চল্য
রাজ্য

টেকনিশিয়ান থেকে ডাক্তার! ভুয়ো MBBS সার্টিফিকেটে অস্ত্রোপচার, বর্ধমানে ৫ ‘ভুয়ো চিকি...

বর্ধমান: পেশায় ছিলেন ওটি টেকনিশিয়ান। কিন্তু অভিযোগ, সেই পরিচয় বদলে গিয়ে কেউ হয়ে উঠেছিলেন চিকিৎসক। শুধু রোগী দেখাই নয়, ভুয়ো MBBS সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে দিনের পর দিন অস্ত্রোপচারও করার অভিযোগ উঠেছে। পশ্চিমবঙ্গে এমনই চাঞ্চল্...

১৩ সেপ্টে ২০২৬, ১১:৫৩ এএম · 2 মিনিট
৪ মে-র পর থেকেই গা-ঢাকা! চেন্নাই থেকে গ্রেফতার তৃণমূলের উপপ্রধান, একাধিক অভিযোগে চাঞ্চল্য
রাজ্য

৪ মে-র পর থেকেই গা-ঢাকা! চেন্নাই থেকে গ্রেফতার তৃণমূলের উপপ্রধান, একাধিক অভিযোগে চ...

হাসনাবাদ: ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই এলাকায় দেখা মিলছিল না তৃণমূল নেতার। এক জায়গায় নয়, বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে বেড়ানোর অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। অবশেষে মোবাইল টাওয়ারের লোকেশন ট্র্যাক করে তামিলনাড়ুর চেন্নাই থেকে গ্রেফত...

১৩ সেপ্টে ২০২৬, ১১:৫১ এএম · 2 মিনিট
লটারির টিকিটে এক কোটি! রাতারাতি কোটিপতি বাগদার দিনমজুর
রাজ্য

লটারির টিকিটে এক কোটি! রাতারাতি কোটিপতি বাগদার দিনমজুর

বনগাঁ, নিউজ ডেস্ক: লটারির টিকিট কিনে রাতারাতি ভাগ্য বদলে গেল বাগদার দিনমজুরের। এক কোটি টাকার লটারি জিতলেন খর্দ কুলবেরিয়া এলাকার বাসিন্দা প্রভাত পাল। পেশায় দিনমজুর প্রভাতের হাতে এখন এক কোটি টাকা। তাঁর এই বিরাট জয়ে এলাকায় ...

১২ সেপ্টে ২০২৬, ১০:৩১ পিএম · 2 মিনিট

Top Comments (0)

No approved comments yet.