JAZZBAAT 24 BANGLA
১৬ সেপ্টে ২০২৬, ০৬:০২ এএম
Breaking
মায়ের পিছু পিছু জঙ্গলের পথে ঢোল শাবকের দল, দেবরীগড়ের ভিডিও ঘিরে বন্যপ্রাণীপ্রেমীদের কৌতূ... পুজোর আগে সংস্কারের দাবি, বেহাল রাস্তার জমা জলে মাছ ছেড়ে প্রতিবাদ সিপিআইএমের নিউ ইয়র্কে মৃত্যু ভারতীয় বংশোদ্ভূত তরুণীর স্পাইসজেটের বিরুদ্ধে দিল্লিতে ২০০ যাত্রীর বিক্ষোভ ৮০ কেজি ওজন ঝরিয়ে নতুন জীবন ! পুরনো ভিডিয়োয় চোখে জল এমিলির বিধ্বংসী টর্নেডোর দাপটে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি! জারি হল সতর্কতা ১৬,৫০০ ফুট উচ্চতায় হিমালয়ের গভীর ফাটলে আটকে ভালুকছানা, প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে দড়ি বেয়ে নে... যে পদ্ধতি ভারতে নিষিদ্ধ, সেটাই এবার জীবন বাঁচানোর শেষ ভরসা! নেপালের সুড়ঙ্গে ৬ শ্রমিককে উদ... মায়ের পিছু পিছু জঙ্গলের পথে ঢোল শাবকের দল, দেবরীগড়ের ভিডিও ঘিরে বন্যপ্রাণীপ্রেমীদের কৌতূ... পুজোর আগে সংস্কারের দাবি, বেহাল রাস্তার জমা জলে মাছ ছেড়ে প্রতিবাদ সিপিআইএমের নিউ ইয়র্কে মৃত্যু ভারতীয় বংশোদ্ভূত তরুণীর স্পাইসজেটের বিরুদ্ধে দিল্লিতে ২০০ যাত্রীর বিক্ষোভ ৮০ কেজি ওজন ঝরিয়ে নতুন জীবন ! পুরনো ভিডিয়োয় চোখে জল এমিলির বিধ্বংসী টর্নেডোর দাপটে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি! জারি হল সতর্কতা ১৬,৫০০ ফুট উচ্চতায় হিমালয়ের গভীর ফাটলে আটকে ভালুকছানা, প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে দড়ি বেয়ে নে... যে পদ্ধতি ভারতে নিষিদ্ধ, সেটাই এবার জীবন বাঁচানোর শেষ ভরসা! নেপালের সুড়ঙ্গে ৬ শ্রমিককে উদ...

১৯ বছরের নির্বাসন শেষে কলকাতায় তসলিমা, ‘বারবার আসবেন’, আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

১৯ বছরের নির্বাসন শেষে কলকাতায় তসলিমা, ‘বারবার আসবেন’, আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

কলকাতা, ১ অগস্ট: যে শহরকে তিনি একসময় নিজের দ্বিতীয় ঠিকানা বলে মনে করেছিলেন, সেই শহরেই ফিরতে অপেক্ষা করতে হল দীর্ঘ ১৯ বছর। নির্বাসনের যন্ত্রণা, নিষিদ্ধ বই, রাজনৈতিক বিতর্ক, নিরাপত্তার কড়াকড়ি— সব কিছুকে পিছনে ফেলে শনিবার কলকাতার রবীন্দ্র সদনের মঞ্চে দাঁড়ালেন বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন। 

আর সেই মঞ্চ থেকেই তাঁর উদ্দেশে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বার্তা— “একবার নয়, আপনি যখনই মনে করবেন, বার বার আসবেন। সুরক্ষিত পশ্চিমবঙ্গে আপনাকে নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রীর।”

প্রায় দুই দশক পরে এই প্রত্যাবর্তন শুধু এক সাহিত্যিকের শহরে ফেরা নয়, বরং বাংলার বদলে যাওয়া রাজনৈতিক বাস্তবতারও এক প্রতীকী ছবি হয়ে উঠল। কারণ, যে লেখিকাকে ২০০৭ সালে অশান্তির আবহে কলকাতা ছাড়তে হয়েছিল, তাঁকেই আজ সরকারি নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়ে স্বাগত জানাল নতুন সরকার।

রবীন্দ্র সদনের মঞ্চে আবেগ, কৃতজ্ঞতা আর একরাশ আক্ষেপ

শনিবার বিকেলে রবীন্দ্র সদনে তসলিমা নাসরিনের ‘আত্মজীবনী সমগ্র’ প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাহিত্যিক, সংস্কৃতিজগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অনুষ্ঠান শুরু থেকেই ছিল কড়া নিরাপত্তার বলয়।

বই প্রকাশের পরে বক্তৃতা দিতে উঠে আবেগে ভেসে যান তসলিমা। দীর্ঘ বিরতির পর কলকাতায় ফিরে তাঁর প্রথম প্রতিক্রিয়া, “কলকাতায় ফিরেছি— এই কথাটা বলতেই আমার প্রায় দুই দশক লেগে গেল। একজন লেখককে নিজের ভাষার শহরে আসতে পুলিশের সাহায্যের প্রয়োজন হয়, এর চেয়ে বেদনাদায়ক আর কিছু হতে পারে না।”

মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি ভারতের নাগরিক নই। তবু একজন নির্যাতিত লেখকের নিরাপত্তা এবং মতপ্রকাশের অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই জন্য আমি সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে কৃতজ্ঞ।”

‘অগস্ট আমার প্রত্যাবর্তনের মাস’

বক্তৃতার একাধিক জায়গায় ফিরে আসে নির্বাসনের প্রসঙ্গ। তসলিমার কথায়, “আমি কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে কথা বলতে আসিনি। আমি বাক্‌স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলতে এসেছি। ভয় চিরস্থায়ী নয়, নিষেধাজ্ঞাও চিরস্থায়ী নয়। বন্ধ দরজা কোনও দিনই চিরকাল বন্ধ থাকে না।”

এরপরই তিনি বলেন, “অগস্ট আমার জন্মের মাস। অগস্ট আমার নির্বাসনের মাস। আজ থেকে অগস্ট আমার প্রত্যাবর্তনের মাস।”

এই একটি বাক্যেই যেন ধরা পড়ে প্রায় তিন দশকের নির্বাসিত জীবনের যন্ত্রণা, অপেক্ষা এবং ফিরে পাওয়ার আবেগ।

‘বাংলাদেশকে আমার ভেতর থেকে কেউ সরাতে পারেনি’

নিজের দেশ, নিজের ভাষা এবং নির্বাসনের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে একাধিকবার আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তসলিমা।

তিনি বলেন, “রাষ্ট্র আমাকে দেশ থেকে সরিয়ে দিয়েছে, কিন্তু আমার ভিতর থেকে বাংলাদেশকে সরাতে পারেনি। এক বাংলায় আমার জন্ম, আর এক বাংলায় আমি আশ্রয় পেয়েছিলাম। আমি কোনও দিন বাংলাকে এপার-ওপার বলে ভাবিনি। কাঁটাতার ভূখণ্ডকে ভাগ করতে পারে, ভাষাকে নয়।”

এরপরই তিনি স্মরণ করিয়ে দেন তাঁর বিতর্কিত বই ‘দ্বিখণ্ডিত’-এর প্রসঙ্গ। বলেন, “আমার বই নিষিদ্ধ হয়েছিল। পরে হাইকোর্ট সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলেও নির্বাসনের যন্ত্রণা শেষ হয়নি।”

‘আমি কী অপরাধ করেছিলাম?’

বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত হওয়ার প্রসঙ্গ তুলতে গিয়ে তসলিমার কণ্ঠে স্পষ্ট ক্ষোভও ধরা পড়ে।

তিনি বলেন, “আমি কী অপরাধ করেছিলাম? আমি কি কাউকে হত্যা করেছিলাম? অথচ আমার বিরুদ্ধে হত্যার ডাক দেওয়া হয়েছিল। সারা দেশে আমাকে হত্যার জন্য মিছিল বেরিয়েছিল। রাষ্ট্র আমাকে নিরাপত্তা দেওয়ার বদলে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল। আমাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছিল।”

তাঁর দাবি, “আমার নির্বাসন কোনও ব্যক্তিগত ঘটনা নয়। এটি আইনের শাসনের নির্বাসন। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নির্বাসন।”

‘ধমক-চমকের রাজনীতি শেষ’— শুভেন্দুর বার্তা

তসলিমার বক্তৃতার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এখন পশ্চিমবঙ্গ শৃঙ্খলমুক্ত, বাঁধনমুক্ত। এখানে সংবিধানের প্রতিটি স্তম্ভ সুরক্ষিত। গণতন্ত্র, বাক্‌স্বাধীনতা এবং মৌলিক অধিকার রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব। তসলিমা নাসরিনের উপস্থিতিই তার প্রমাণ।”

তিনি আরও বলেন, “এখানে আর ধমক, চমক, দেখে নেব, আটকে দেব— এই রাজনীতি নেই। আমি আমন্ত্রিত হয়ে আসিনি। তিনি আসছেন শুনে তাঁকে স্বাগত জানাতে এসেছি। আমি শুধু মুখ্যমন্ত্রী নই, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরেরও দায়িত্বে আছি। তাই বাংলার একজন বিশিষ্ট লেখিকাকে স্বাগত জানানো আমার কর্তব্য।”

মুখ্যমন্ত্রীর সংযোজন, “আপনি লেখিকা। আপনার পাঠক অসংখ্য। পশ্চিমবঙ্গে যে পরিবর্তন হয়েছে, তা আপনি নিশ্চয়ই অনুভব করেছেন।”

‘দ্বিখণ্ডিত’ বিতর্ক থেকে নির্বাসন

২০০৭ সালে তসলিমা নাসরিনের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘দ্বিখণ্ডিত’ প্রকাশের পর পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক বিক্ষোভ ও অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার বইটি নিষিদ্ধ করে। সেই সময় কলকাতা ছাড়তে বাধ্য হন তসলিমা।

পরবর্তীকালে আদালত বইটির উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেও তাঁর আর কলকাতায় ফেরা হয়নি। বাম সরকারের পতনের পর দীর্ঘ ১৫ বছর তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকলেও তাঁকে রাজ্যে আসার অনুমতি মেলেনি।

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তসলিমার প্রত্যাবর্তন নিয়ে ইতিবাচক অবস্থান নেয়। শনিবারের অনুষ্ঠান সেই দীর্ঘ অপেক্ষারই পরিসমাপ্তি ঘটাল।

শুধু এক লেখিকার ফেরা নয়

রবীন্দ্র সদনের মঞ্চে দাঁড়িয়ে তসলিমা নাসরিনের চোখে যেমন ছিল নির্বাসনের স্মৃতি, তেমনই ছিল ফিরে পাওয়ার স্বস্তি। আর মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এল নতুন সরকারের রাজনৈতিক বার্তা।

দীর্ঘ ১৯ বছর পরে কলকাতায় তসলিমার প্রত্যাবর্তন তাই শুধু একটি সাংস্কৃতিক ঘটনা নয়। এটি বাক্‌স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার, নির্বাসনের ইতিহাস এবং বাংলার পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতার এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবেই স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

305 Views 0 Likes 0 Comments

Related News

পুজোর আগে সংস্কারের দাবি, বেহাল রাস্তার জমা জলে মাছ ছেড়ে প্রতিবাদ সিপিআইএমের
রাজ্য

পুজোর আগে সংস্কারের দাবি, বেহাল রাস্তার জমা জলে মাছ ছেড়ে প্রতিবাদ সিপিআইএমের

দুর্গাপুর, নিউজ ডেস্ক: পুজোর আগে বেহাল রাস্তা সংস্কারের দাবিতে অভিনব প্রতিবাদ সিপিআইএমের। রাস্তার বড় বড় গর্তে জমে থাকা বৃষ্টির জলে মাছ ছেড়ে বিক্ষোভ দেখালেন সিপিআইএম কর্মী-সমর্থকেরা। মঙ্গলবার সকালে দুর্গাপুরের বিধাননগর...

১৫ সেপ্টে ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম · 2 মিনিট
বাংলাদেশে পাচারের আগেই বড়সড় সাফল্য! মালদহে ৪ পিস্তল উদ্ধার, ২ কোটি টাকার মাদক তৈরির কারখানার হদিশ
রাজ্য

বাংলাদেশে পাচারের আগেই বড়সড় সাফল্য! মালদহে ৪ পিস্তল উদ্ধার, ২ কোটি টাকার মাদক তৈ...

মালদহের পুলিশ সুপার অনুপম সিং জানিয়েছেন, অস্ত্র পাচারের ঘটনায় একটি আন্তর্জাতিক চক্রের যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

১৫ সেপ্টে ২০২৬, ০৮:৪৮ পিএম · 3 মিনিট
খুনের নেপথ্যে ‘ভাইপো গ্যাং’-এর দাবি শুভেন্দুর, বললেন ‘ফাঁসি হবে’
রাজ্য

খুনের নেপথ্যে ‘ভাইপো গ্যাং’-এর দাবি শুভেন্দুর, বললেন ‘ফাঁসি হবে’

এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রথমে রাজ্য পুলিশের হাতে ছিল। পরে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করে তদন্ত শুরু হয়। পরবর্তীতে মামলার তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

১৫ সেপ্টে ২০২৬, ০৮:২০ পিএম · 2 মিনিট
ওষুধের স্টোরে মেয়াদ পেরোনো ওষুধ, মশলায় পোকা! সরকারি হাসপাতালে হানা দিয়ে ক্ষুব্ধ BJP বিধায়ক
রাজ্য

ওষুধের স্টোরে মেয়াদ পেরোনো ওষুধ, মশলায় পোকা! সরকারি হাসপাতালে হানা দিয়ে ক্ষুব্ধ BJ...

প্রথমে হাসপাতালের রান্নাঘরে গিয়ে রোগীদের জন্য রান্না করা খাবারে ব্যবহৃত মশলা পরীক্ষা করেন। সেখানেই মশলার মধ্যে পোকা দেখতে পান বলে তাঁর দাবি। বিষয়টি দেখে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং রোগীদের খাবারের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

১৫ সেপ্টে ২০২৬, ০৭:৫৬ পিএম · 2 মিনিট

Top Comments (0)

No approved comments yet.