পূর্ব মেদিনীপুর: চন্দ্রনাথ রথ খুনের ঘটনায় ফের বিস্ফোরক দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে চন্দ্রনাথের মা হাসিরানি রথ মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর তাঁর সঙ্গে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। মনোনয়ন পর্ব শেষে চন্দ্রনাথের খুনের প্রসঙ্গ উঠতেই শুভেন্দুর দাবি, তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রায় দু’কোটি টাকা খরচ করা হয়েছিল। সেই টাকা শুটারদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজে ‘ভাইপো গ্যাং’ যুক্ত ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
চন্দ্রনাথ রথ ছিলেন শুভেন্দুর তৎকালীন আপ্তসহায়ক। বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের দু’দিন পর, ৬ মে রাতে মধ্যমগ্রামে গুলি করে তাঁকে খুন করা হয়। গাড়িতে চালকের পাশের আসনে বসেছিলেন চন্দ্রনাথ। আচমকা বাইকে করে এসে দুষ্কৃতীরা গুলি চালায়। ঘটনায় গাড়ির চালকও গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় চন্দ্রনাথকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রথমে রাজ্য পুলিশের হাতে ছিল। পরে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করে তদন্ত শুরু হয়। পরবর্তীতে মামলার তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়। শুভেন্দুর বক্তব্য, ঘটনার সঙ্গে আন্তঃরাজ্য যোগ থাকায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার শুভেন্দু বলেন, চন্দ্রনাথকে হত্যার ঘটনায় শুটার এবং তাঁদের কাছে সুপারি পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগে মোট সাত জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর দাবি, খুনের জন্য প্রায় দু’কোটি টাকা খরচ করা হয়েছিল এবং সেই টাকা সরবরাহের কাজে ‘ভাইপো গ্যাং’ যুক্ত ছিল।
এখানেই থামেননি মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, শুটারদের কাছে টাকা পৌঁছে দেওয়ার সঙ্গে ডায়মন্ড হারবারের কয়েকজনের যোগ রয়েছে। তাঁদের কথোপকথনের কল রেকর্ড তিনি শুনেছেন বলেও দাবি করেছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে এর বেশি তথ্য প্রকাশ্যে আনতে চাননি তিনি। বাকি বিষয় সিবিআই তদন্ত করছে বলে জানান।
শুভেন্দুর আরও দাবি, ইতিমধ্যেই সাত জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং চার্জশিটও দেওয়া হয়েছে। তাঁর বিশ্বাস, অভিযুক্তদের শেষ পর্যন্ত কঠোরতম শাস্তি হবে।
তবে সিবিআইয়ের তদন্তে উঠে আসা তথ্যের সঙ্গে শুভেন্দুর বক্তব্যের কিছু পার্থক্য রয়েছে। সিবিআইয়ের চার্জশিটে যে সাত জনের কথা বলা হয়েছে, তাঁদের সঙ্গে সরাসরি তৃণমূলের যোগের প্রমাণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। তদন্তে শুটারদের টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে ডায়মন্ড হারবারের যোগের যে অভিযোগ করা হচ্ছে, সেটিও শুভেন্দুর দাবি হিসেবেই সামনে এসেছে।
সিবিআইয়ের তদন্তে ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে সাগর ও সাহেব সোনকর নামে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, শুটার জোগাড় করা, রেইকি এবং প্রয়োজনীয় রসদ সরবরাহের মতো একাধিক কাজে তাঁদের ভূমিকা ছিল। বাকি অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন ভিন্রাজ্যের পেশাদার অপরাধী বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
চন্দ্রনাথ হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই রাজনৈতিক চাপানউতোর চলছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকেও ঘটনার নিন্দা করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছিল। মঙ্গলবার শুভেন্দুর নতুন অভিযোগের পর তৃণমূল তাদের আগের অবস্থানই পুনরায় জানিয়েছে।
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে চন্দ্রনাথের মা হাসিরানি রথকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। তাঁর মনোনয়ন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই ছেলের হত্যাকাণ্ড নিয়ে শুভেন্দুর এই বিস্ফোরক দাবি নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। এখন সিবিআই তদন্তে এই অভিযোগগুলির কোনও প্রমাণ মেলে কি না, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।