২০২৬ সালে ভারতীয় শেয়ার বাজারকে ঘিরে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ তুঙ্গে। সেনসেক্স কি এক লক্ষের গণ্ডি পেরোতে পারবে, নাকি বাজার নির্দিষ্ট সীমার মধ্যেই ঘোরাফেরা করবে, এই প্রশ্ন এখন অনেকেরই মনে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বল্পমেয়াদে কিছুটা ওঠানামা থাকলেও ভারতের অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তি এখনও শক্তিশালী।
চলতি বছরে বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীরা (FPI) ভারতীয় শেয়ার বাজার থেকে বড় অঙ্কের অর্থ তুলে নিয়েছেন। ১০ জুলাই পর্যন্ত তাদের মোট বিক্রির পরিমাণ প্রায় ২.৫৯ লক্ষ কোটি টাকা। তবে এই চাপ অনেকটাই সামলে দিয়েছেন দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা (DII)। বিশেষ করে এসআইপি-র মাধ্যমে নিয়মিত বিনিয়োগ করা খুচরা বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। একই সময়ে দেশীয় বিনিয়োগকারীরা প্রায় ৪.৮ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন।
বাজার বিশেষজ্ঞ নিখিল চাওলার মতে, দেশীয় বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি ইতিবাচক হলেও বিদেশি বিনিয়োগের বিকল্প হিসেবে একে দেখা উচিত নয়। দীর্ঘমেয়াদে বিদেশি মূলধন বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, ২০২৬ সালে শেয়ার বাজার একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যেই লেনদেন করতে পারে। এর পিছনে রয়েছে বিশ্ব প্রযুক্তি খাতের ধীরগতি, ভারতের অর্থনীতিতে স্বল্পমেয়াদি চাপ এবং বিনিয়োগের ধরণে পরিবর্তন।
বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) সংক্রান্ত সংস্থাগুলির শেয়ারে গত কয়েক বছরে বড় উত্থান দেখা গেলেও এখন সেই গতি কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রাস্ফীতির চাপ এবং দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ সুদের হার প্রযুক্তি সংস্থাগুলির উচ্চ মূল্যায়নের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
ভারতের ক্ষেত্রেও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামা এবং দুর্বল বর্ষা অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে গ্রামীণ চাহিদা ও কৃষি আয়ের ওপরও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে দীর্ঘমেয়াদে বেশ কয়েকটি খাতকে সম্ভাবনাময় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পরিকাঠামো, বিদ্যুৎ, উৎপাদন, ইস্পাত, সিমেন্ট, অটো, অটো যন্ত্রাংশ, লজিস্টিকস, ফার্মাসিউটিক্যালস, ডিজিটাল পেমেন্ট এবং অভ্যন্তরীণ পর্যটনের মতো ক্ষেত্র আগামী কয়েক বছরে ভালো ফল দিতে পারে বলে তাঁদের ধারণা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি মার্কিন অর্থনীতিতে গতি কমে, প্রযুক্তি শেয়ারে বড় সংশোধন আসে এবং নতুন উদীয়মান বাজারের দিকে বিদেশি তহবিল ঝুঁকে পড়ে, তাহলে ভারতে আবার বিদেশি বিনিয়োগ বাড়তে পারে। তবে শুধুমাত্র বিদেশি বিনিয়োগের ওঠানামা দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য ও মৌলিক অর্থনৈতিক অবস্থার ভিত্তিতে বিনিয়োগ করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।




