কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের জোড়া টাওয়ারে বিমান হামলার পর বদলে গিয়েছিল গোটা বিশ্বের নিরাপত্তা-চিত্র। কিন্তু তার প্রায় তিন বছর আগেই কি ভারতে বসে কেউ সেই হামলার সম্ভাবনা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন? ১৯৯৮ সালের একটি বাংলা সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সূত্র ধরে এমনই এক বিস্ময়কর দাবি সামনে এসেছে।
সম্প্রতি National Herald-এর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ১৯৯৮ সালের ২৩ অক্টোবর কলকাতা থেকে প্রকাশিত বাংলা দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন-এ একটি প্রতিবেদনে আমেরিকার বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে জঙ্গি হামলার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। সেই তালিকায় ছিল নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারও। প্রতিবেদনে ওসামা বিন লাদেনের নাম এবং ছবিও প্রকাশিত হয়েছিল বলে জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনটির দুই সাংবাদিক ছিলেন কুণাল ঘোষ এবং সাক্ষর সেনগুপ্ত। তাঁদের কাছে এই তথ্য এসেছিল বলে দাবি করা হয়েছে ভারতের ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর এক আধিকারিকের কাছ থেকে। ওই আধিকারিক তাঁদের কাছে আরবি ও ফারসি ভাষায় লেখা কিছু নথিও তুলে দিয়েছিলেন বলে National Herald জানিয়েছে।
তৎকালীন তথ্য অনুযায়ী, বিদেশ থেকে আসা জঙ্গিদের একটি গোপন বৈঠক উত্তর ভারতের কোথাও, সম্ভবত কাশ্মীরে হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল। আমেরিকার স্বার্থসংশ্লিষ্ট একাধিক জায়গায় হামলার পরিকল্পনার কথাও সেই তথ্যের মধ্যে ছিল। সুদান, সোমালিয়া, ইয়েমেন, নাইরোবির মার্কিন দূতাবাসের পাশাপাশি নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের নামও উঠে এসেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয়, সেই সতর্কবার্তা নাকি তৎকালীন নিরাপত্তা মহলে বিশেষ গুরুত্ব পায়নি। কলকাতার আইবি দফতর বিষয়টি সদর দফতরে পাঠিয়েছিল কি না, পাঠিয়ে থাকলে তার পর কী পদক্ষেপ হয়েছিল তার স্পষ্ট তথ্য নেই। এমনকি কলকাতায় থাকা মার্কিন কনস্যুলেটের গোয়েন্দা প্রতিনিধিদের কাছেও এই তথ্য পৌঁছেছিল কি না, সেটিও নিশ্চিত নয়।
সাংবাদিক কুণাল ঘোষের স্মৃতিচারণ অনুযায়ী, খবরটি প্রকাশের পর তাঁরা প্রবল সমালোচনা ও ঠাট্টার মুখে পড়েছিলেন। সহকর্মীদের অনেকেই প্রতিবেদনটিকে অবিশ্বাস্য বলে মনে করেছিলেন। কোনও বড় ফলো-আপও হয়নি। এরপর প্রায় তিন বছর পর ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকায় ঘটে যায় সেই ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদী হামলা।
সাক্ষর সেনগুপ্তও পরে জানান, সেই সময় তাঁরা তথ্যটির গুরুত্ব বুঝেছিলেন ঠিকই, কিন্তু তার ব্যাপকতা পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারেননি। তাঁদের সূত্রটি অবশ্য তথ্যটিকে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য এবং গুরুতর বলে মনে করেছিলেন।
৯/১১ হামলায় প্রায় ৩,০০০ মানুষ প্রাণ হারান। পরে বহু উদ্ধারকর্মী ও জীবিত ব্যক্তি হামলার পরবর্তী সময়ে বিষাক্ত ধোঁয়া ও ধ্বংসস্তূপের সংস্পর্শে আসার কারণে অসুস্থ হয়ে মারা যান।
১৯৯৮ সালের সেই প্রতিবেদনের তথ্য কতটা নির্ভুল ছিল, তৎকালীন গোয়েন্দা সংস্থাগুলির কাছে তার কী মূল্যায়ন ছিল এবং সতর্কবার্তাটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মহলে আদৌ পৌঁছেছিল কি না, এই প্রশ্নগুলির সম্পূর্ণ উত্তর আজও অজানা। তবে ৯/১১-এর ২৫ বছর পূর্তির সময় সেই পুরনো বাংলা প্রতিবেদন ফের সামনে আসায় ইতিহাসের এক অস্বস্তিকর প্রশ্নই নতুন করে উঠছে,যদি সেই সতর্কবার্তাকে তখন গুরুত্ব দেওয়া হতো, তাহলে কি কিছু প্রাণ বাঁচানো সম্ভব ছিল?