হাড়োয়া, নিউজ ডেস্ক: আচমকাই বরফ কারখানার পাইপ ফেটে বেরিয়ে এল গ্যাস। মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লো তীব্র আতঙ্ক। গ্যাসের প্রভাবে শ্বাসকষ্টে অসুস্থ হয়ে পড়েন অন্তত ২০ জন শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দা। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায় উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার হাড়োয়ার ধর্মতলা মোড়ের কাছে সাপপুকুর এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে খবর, সাপপুকুরের একটি বরফ কারখানায় আচমকা একটি পাইপ ফেটে যায়। পাইপ ফেটে বেরিয়ে আসতে শুরু করে অ্যামোনিয়া, নাইট্রোজেন ও কার্বন-ডাই-অক্সাইড মিশ্রিত গ্যাস। ঘনজনবসতিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। কারখানার শ্রমিক এবং আশেপাশের বেশ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দাদের শ্বাস কষ্ট শুরু হয়। পরিস্থিতির বেগতিক দেখে খবর দেয়া হয় পুলিশ ও দমকলকে।
এরপর, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় হাড়োয়া থানার পুলিশ এবং দমকল বাহিনী। পরিস্থিতি সামাল দিতে তৎপর হয় প্রশাসন। ফেটে যাওয়া পাইপ থেকে গ্যাস লিক বন্ধ করার পাশাপাশি অসুস্থদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাঁদের মধ্যে তিনজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার কারণে হাড়োয়া গ্রামীণ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘন জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই ধরনের কারখানায় নিরাপত্তার ব্যবস্থা কতটা মজবুত, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। গ্যাস লিকের ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন বাসিন্দারা। কারখানার মালিকের গ্রেপ্তারের দাবিতে এবং ঘটনার প্রতিবাদে বেড়াচাঁপা- হাড়োয়া রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। ফলে, রাস্তায় যান চলাচল ব্যাহত হয়।
পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে। পুলিশের আশ্বাসে পরে অবরোধ তুলে নেয় স্থানীয়রা। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
তবে, ঠিক কি কারণে বরফ কারখানার পাইপটি আচমকা ফেটে গেল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। যান্ত্রিক ত্রুটি, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব নাকি অন্য কোন কারণে এই ঘটনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি গ্যাস লিকের পরে আরও কেউ অসুস্থ হয়েছে কি না, সেই বিষয়ও দেখা হচ্ছে। ঘটনার পর কারখানা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও একাধিক প্রশ্ন উঠেছে।