চন্দননগর: একদিকে পুলিশের উর্দি, অন্যদিকে হাতে সাদা রং। ব্যস্ত রাস্তার উপর বসে নিপুণ হাতে আলপনা আঁকছেন এক পুলিশকর্মী। চারপাশে দুর্গাপুজোর উৎসবের আমেজ, আর তারই মাঝে শিল্পীর মতো নিজের কাজে মগ্ন তিনি। চন্দননগর স্ট্যান্ড এলাকার এই দৃশ্যের ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই নজর কেড়েছে নেটিজেনদের। পুলিশের পরিচিত কর্মব্যস্ত ছবির আড়ালে যেন ধরা পড়েছে এক অন্য রূপ যেখানে দায়িত্বের পাশাপাশি জায়গা করে নিয়েছে শিল্প ও বাঙালির পুজোর আবেগ।
দুর্গাপুজো বাঙালির কাছে নিছক একটি উৎসব নয়, বরং আবেগ, ঐতিহ্য ও ভালোবাসার এক অনন্য মেলবন্ধন। সারা বছর ধরে এই কয়েকটি দিনের জন্য অপেক্ষা করে থাকেন আট থেকে আশি। পুজোকে কেন্দ্র করে আলোয় সেজে ওঠে শহর থেকে গ্রাম, অলিগলি থেকে রাজপথ। বর্ণময় মণ্ডপ, প্রতিমা দর্শন আর উৎসবের আনন্দে মেতে ওঠেন অসংখ্য মানুষ। তবে এই আনন্দের পিছনে থাকে বহু মানুষের নিরলস পরিশ্রম। বিশেষ করে, পুজোর দিনগুলিতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যত দিনরাত এক করে কাজ করেন পুলিশকর্মীরা।
কিন্তু সেই ব্যস্ততার মাঝেও যে তাঁদের মনেও রয়েছে পুজোর রং, শিল্পের প্রতি ভালোবাসা এবং বাঙালিয়ানার টান, তা যেন নতুন করে মনে করিয়ে দিল চন্দননগরের এই দৃশ্য।
https://x.com/SudhanidhiB/status/2108233414780600737
সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, চন্দননগর স্ট্যান্ড এলাকায় রাস্তার উপর বসে সাদা রং দিয়ে আলপনা আঁকছেন এক পুলিশকর্মী। ধীরে ধীরে তাঁর হাতের ছোঁয়ায় ফুটে উঠছে বৃত্তাকার নকশা ও পদ্মফুলের মতো নান্দনিক মোটিফ। নিখুঁতভাবে নকশা ফুটিয়ে তুলতে তাঁর একাগ্রতা চোখে পড়ার মতো। চারপাশে যখন উৎসবের ব্যস্ততা, তখনও নিজের কাজে ডুবে রয়েছেন তিনি। তাঁর এই সৃজনশীল উদ্যোগই নজর কেড়েছে নেটদুনিয়ার।
পুলিশকর্মীদের কাজ নিয়ে নানা সময়ে আলোচনা, সমালোচনা কিংবা বিতর্ক সামনে আসে। কিন্তু উৎসবের মরশুমে তাঁদের দায়িত্বের পরিধি যে কতটা বিস্তৃত, তা অনেক সময় সাধারণ মানুষের চোখের আড়ালেই থেকে যায়। যখন অধিকাংশ মানুষ পরিবারের সঙ্গে পুজোর আনন্দ ভাগ করে নেন, তখন বহু পুলিশকর্মীকে কাটাতে হয় কর্মস্থলে। নিরাপত্তা থেকে যান নিয়ন্ত্রণ একাধিক দায়িত্ব সামলে তাঁদের নিশ্চিত করতে হয় উৎসবের নির্বিঘ্ন পরিবেশ।
তবে পুলিশের উর্দির আড়ালে থাকা মানুষটিও যে উৎসবের আনন্দে সমানভাবে শামিল হতে চান, চন্দননগরের এই দৃশ্য যেন সেই কথাই বলে। দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ভালোলাগা, শিল্পবোধ এবং সংস্কৃতির প্রতি টানও তাঁদের জীবনের অংশ। আর সেই অনুভূতিরই এক সুন্দর প্রকাশ হয়ে উঠেছে আলপনা আঁকার এই মুহূর্ত।
আসলে দুর্গাপুজো কেবল দর্শনার্থী, পুজো উদ্যোক্তা কিংবা উৎসবের আয়োজকদের নয়,এই আনন্দকে সুষ্ঠুভাবে সবার কাছে পৌঁছে দিতে যাঁরা নিরলস পরিশ্রম করেন, তাঁদেরও।উৎসবের আলোর পিছনে থাকা সেই মানুষগুলির অবদানও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
চন্দননগরের এই ভাইরাল দৃশ্য তাই শুধুই একজন পুলিশকর্মীর আলপনা আঁকার মুহূর্ত নয়। এর মধ্যে রয়েছে দায়িত্বের পাশাপাশি সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসার এক অনন্য ছবি। পুলিশের উর্দি পরেও যে শিল্পীসত্তা হারিয়ে যায় না, বরং সুযোগ পেলেই রং-রেখায় প্রকাশ পায়, তা যেন আবারও বুঝিয়ে দিল এই দৃশ্য।
পুজোর আনন্দ সবার। আর সেই আনন্দের রং আরও উজ্জ্বল করে তোলেন তাঁরাও, যাঁরা নিজেদের সময় ও শ্রম উৎসর্গ করেন অন্যের উৎসবকে নির্বিঘ্ন করে তুলতে।
