রায়গঞ্জ, নিউজ ডেস্ক : একটি পুরনো ঘটনা, এক কিশোরের অকাল মৃত্যু, আর সঙ্গে দীর্ঘ অপেক্ষা। সময় স্রোতের সঙ্গে পেরিয়ে গিয়েছে তিনটি দশক। বদলেছে প্রজন্ম আর বদলেছে পরিস্থিতিও। কিন্তু, একটি মামলার পরিণতির অপেক্ষা শেষ হয়নি। অবশেষে দীর্ঘ ৩০ বছর পর সেই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জানালো আদালত। রায় ঘোষণার পর এখন সকলের নজর পরবর্তী শুনানির দিকে। কারন আগামী সোমবার জানা যেতে পারে এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তির কি শাস্তি হতে চলেছে।
ঘটনাটি ১৯৯৬ সালের ৭ জুলাই। তৎকালীন রায়গঞ্জ কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক ফলাফল দেখতে গিয়েছিল ১৭ বছরের ছাত্র সমীর দেবনাথ। অভিযোগ, সেই সময় কলেজ চত্বরে সমীর মোদক নামে এক যুবককে লক্ষ্য করে গুলি চালান সৌমেন ঘোষ ওরফে টুয়া। কিন্তু, গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে লাগে নিরীহ ছাত্র সমীর দেবনাথের গায়ে। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় ওই কিশোরের। মুহূর্তের মধ্যেই আনন্দের পরিবেশ পরিণত হয় শোকের আবহে। ঘটনার পরই রায়গঞ্জ থানায় খুনের মামলা দায়ের করা হয়। শুরু হয় তদন্ত এবং আদালতে শুরু হয় বিচার প্রক্রিয়া। কিন্তু, দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি বিচারাধীন থাকায় চূড়ান্ত রায়ের জন্য প্রায় অপেক্ষা করতে হয় ৩ দশক। অবশেষে সেই অপেক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্বের সমাপ্তি ঘটলো রায়গঞ্জ জেলা আদালতে।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, রায়গঞ্জ জেলা আদালতের অ্যাডিশনাল সেশন জর্জ কোর্টের বিচারক রোহন সিনহা দীর্ঘ ৩০ বছর পর এই মামলায় অভিযুক্ত সৌমেন ঘোষকে দোষী সাব্যস্ত করল রায়গঞ্জ আদালত। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই মামলায় আদালতের এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে, এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত সাজা ঘোষণা করা হয়নি। আগামী সোমবার এই মামলার সাজা ঘোষণার জন্য সেন্টেন্স হিয়ারিং হবে। অর্থাৎ, ওই শুনানি তে আদালত জানাবে দোষী সাব্যস্ত সৌমেন ঘোষের কি শাস্তি হবে এবং কত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হবে।
তিন দশক আগে ঘটে যাওয়া সেই মর্মান্তিক ঘটনার পর দীর্ঘ সময় ধরে চলেছে আইনি লড়াই। একটি কিশোরের প্রাণহানীর ঘটনায় অবশেষে আদালত অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করলেও এখনও বাকি রয়েছে চূড়ান্ত শাস্তি ঘোষণা। আগামী সোমবার সেই অপেক্ষার অবসান হবে। আদালত কি সাজা নির্ধারণ করে, সেদিকেই নজর এখন সংশ্লিষ্ট মহলের। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ার পর এই রায় পুরনো এই মামলাটিকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। এবার আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়েই পরবর্তী অধ্যায়ের সূচনা হবে।
