নয়াদিল্লি: ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন ঘিরে এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। ভোটারদের সুবিধা এবং ভোটকেন্দ্রে ভিড় কমানোর লক্ষ্যে আগামী লোকসভা নির্বাচনে দেশে পোলিং স্টেশনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। একটি আরটিআইয়ের জবাবে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য থেকেই এমনই ইঙ্গিত মিলেছে।
কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে দেশে প্রায় ১৫.৩৮ লক্ষ পোলিং স্টেশন থাকতে পারে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ১০.৫২ লক্ষ। অর্থাৎ পাঁচ বছরের ব্যবধানে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের সংখ্যা প্রায় ৪৬ শতাংশ বাড়তে পারে।
ভোটারদের যাতে নিজেদের বাড়ির কাছাকাছি ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকে এবং একটি বুথে অতিরিক্ত ভিড় না হয়, সেই লক্ষ্যেই বুথের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা বলে জানা গিয়েছে। তবে বুথ বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই ভোট পরিচালনার পরিকাঠামো এবং খরচও বাড়বে।
প্রতিটি অতিরিক্ত ভোটকেন্দ্রের জন্য প্রয়োজন হবে ভোটকর্মী, নিরাপত্তারক্ষী এবং ভোটগ্রহণের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। তার মধ্যে অন্যতম ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা EVM এবং ভোটার ভেরিফায়েবল পেপার অডিট ট্রেল বা VVPAT।
আরটিআইয়ের জবাবে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে নতুন EVM এবং VVPAT কেনার জন্য প্রায় ৪৮৬ কোটি টাকা খরচ হতে পারে। কমিশনের হাতে বর্তমানে প্রায় ৩০.৪৮ লক্ষ ব্যালট ইউনিট এবং ২১.৯২ লক্ষ কন্ট্রোল ইউনিট রয়েছে বলে তথ্য দেওয়া হয়েছে।
এর পাশাপাশি আগামী নির্বাচনের আগে নতুন করে প্রায় ৩.৫৭ লক্ষ ব্যালট ইউনিট এবং ১.২৫ লক্ষ কন্ট্রোল ইউনিট কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে ভোটের পরিকাঠামো তৈরিতে বিপুল অর্থ ব্যয়ের প্রস্তুতি চলছে।
তবে নতুন করে যে EVM কেনা হবে, সেগুলি শুধুমাত্র বুথের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য প্রয়োজন হচ্ছে, নাকি পুরনো মেশিনের জায়গায় ব্যবহার করা হবে—তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। কারণ, নির্দিষ্ট সংখ্যক নির্বাচন চক্র ব্যবহারের পর EVM-এর কর্মক্ষমতা এবং আয়ু নিয়ে কমিশনের নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। বেশ কিছু পুরনো মেশিন ধাপে ধাপে ব্যবহারের বাইরে চলে যেতে পারে বলেও জানা যাচ্ছে।
২০২৯ সালের নির্বাচন নিয়ে কেন্দ্রের ‘এক দেশ, এক ভোট’ পরিকল্পনাও ইতিমধ্যে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। একইসঙ্গে লোকসভা নির্বাচনের প্রস্তুতিতে কমিশনের এই বিপুল পরিমাণ বুথ এবং EVM ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনাও তাৎপর্যপূর্ণ।
তবে বুথের সংখ্যা বাড়ানো হলে শুধু ভোটারদের সুবিধাই নয়, নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের সংখ্যাও বাড়াতে হবে। বাড়বে নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তাও। ফলে ভোটকেন্দ্র বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচন পরিচালনার সামগ্রিক খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।
২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৯ সালে প্রায় অর্ধেকের কাছাকাছি বেশি পোলিং স্টেশন তৈরির সম্ভাবনা সামনে আসায় ভোটের পরিকাঠামোয় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। শেষ পর্যন্ত কতগুলি বুথে ভোট নেওয়া হবে এবং কত সংখ্যক নতুন EVM কেনা হবে, তা চূড়ান্ত নির্বাচনী প্রস্তুতির সময়ই স্পষ্ট হবে।