ভাঙড়, নিউজ ডেস্ক: কলেজ চত্বরে কয়েক ঘন্টা আগে ছিল উত্তেজনার আবহ। অভিযোগ পাল্টা অভিযোগে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠেছিল। ক্যাম্পাসের ভিতরে এবং বাইরে জমায়েত ঘিরে তৈরি হয়েছে চাপা উত্তেজনা। পরিস্থিতি যাতে আরও বড় আকার না নেই তার জন্য শেষ পর্যন্ত কড়া পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। ঘটনার পর একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে শুরু হয় ধরপাকড়। মঙ্গলবার সকালে সামনে এল সেই ঘটনার বড় আপডেট।
ভাঙ্গড় মহাবিদ্যালয়ে অশান্তির অভিযোগে মোট চার জনকে গ্রেফতার করেছে ভাঙ্গড় থানার পুলিশ। অভিযোগ, এবিভিপি-র ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে কুরুচিকর মন্তব্য, অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি ও গালিগালাজ করা হয়েছিল। পাশাপাশি কলেজ পরিচালন সমিতির সভাপতি সায়ন্তন বসুকে কলেজ ক্যাম্পাসে ঢুকতে দেওয়ার বাধার অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় ছাত্র-ছাত্রীদের পক্ষ থেকে ভাঙ্গড় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। পুলিশ জানিয়েছেন ধৃত দুই ছাত্র নেতার নাম শাহরুখ আকতার আলী মোল্লা এবং আসলাম হাবিব। তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
অন্যদিকে, ঘটনার পর ভাঙ্গড় থানার পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত আরও একটি মামলা রুজু করে। সেই মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে আরও দুজনকে। তাদের নাম রবিউল মিস্ত্রি এবং রবিউল জামান শেখ। পুলিশ সূত্রে দাবি, এই দুজনের সঙ্গে কলেজের সরাসরি কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁদের বিরুদ্ধে অবৈধ জমায়েত, বেআইনিভাবে কলেজে প্রবেশ এবং পরিচালন সমিতির সভাপতিকে কাজে বাধা দেওয়ার মত একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। গোটা ঘটনার পিছনে আরও ভূমিকা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এদিকে চারজনকেই মঙ্গলবার বারুইপুর আদালতে পেশ করার কথা রয়েছে। ঘটনা কেন্দ্র করে কলেজ চত্বরে যাতে নতুন করে কোন উত্তেজনা না ছড়াই, সেই কারণে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। কলেজ ক্যাম্পাসের সামনেই বসানো হয়েছে পুলিশ পিকেট। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন পুলিশকর্মীরা। আপাতত এলাকায় শান্তি বজায় রাখায় পুলিশের প্রধান লক্ষ্য। তবে, এই ঘটনায় পরিস্থিতি কতটা স্বাভাবিক হয়, সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।