মহারাষ্ট্রে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) চালুর লক্ষ্যে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ এই সংক্রান্ত একটি খসড়া বা রূপরেখা তৈরির জন্য উচ্চপর্যায়ের একটি বিশেষ কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা করেছেন। সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে সাত সদস্যের এই প্যানেলটি গঠন করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ভারতীয় সংবিধানের রাষ্ট্রীয় নীতির নির্দেশমূলক মূলনীতিসমূহকে (ডিরেক্টিভ প্রিন্সিপলস) মাথায় রেখেই রাজ্যে এই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নবগঠিত এই কমিটিতে আইন, প্রশাসন এবং শিক্ষাক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের শামিল করা হয়েছে। বিচারপতি রঞ্জনা দেশাইয়ের পাশাপাশি এই প্যানেলের অন্য গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরা হলেন হাইকোর্টের দুই প্রাক্তন বিচারপতি আর সি চ্যাভান এবং এস জি মেহারে। এছাড়াও সদস্য হিসাবে থাকছেন মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্য সচিব ডি কে জৈন, প্রাক্তন অ্যাডভোকেট জেনারেল বীরেন্দ্র সারাফ,সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞ রমেশ পাতঙ্গে এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সুবর্ণা রাওয়াল।
বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী আরও স্পষ্ট করে দেন যে, এই সাত সদস্যের কমিটিকে আগামী ছয় মাসের মধ্যে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন ও সুপারিশ জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের লক্ষ্য অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট। কমিটির রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া শুরু করতে চায় প্রশাসন। "আমরা আগামী নাগপুর শীতকালীন অধিবেশনেই এই সংক্রান্ত বিলটি বিধানসভায় উত্থাপন করার আপ্রাণ চেষ্টা করব।" —জানিয়েছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ।
রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলের মতে, মহারাষ্ট্র সরকারের এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যদি সব কিছু পরিকল্পনা মাফিক চলে, তবে আগামী শীতকালীন অধিবেশনেই রাজ্যবাসী এক ঐতিহাসিক আইনের সাক্ষী হতে চলেছেন। কমিটির রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত খসড়া আইনটি তৈরি হবে বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।