মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে তৈরি হওয়া ঝুঁকির মধ্যে ভারত পর্যন্ত বিকল্প রেলপথ তৈরির ভাবনা প্রকাশ করল রাশিয়া। রুশ উপপ্রধানমন্ত্রী মারাত খুসনুলিন জানিয়েছেন, ভারত মহাসাগর পর্যন্ত রেল সংযোগ তৈরির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সমুদ্রপথে বিঘ্ন তৈরি হলে বিকল্প বাণিজ্যপথ হিসেবে এই রেলপথ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছে মস্কো।
খুসনুলিনের বক্তব্য অনুযায়ী, বসফরাস ও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে তৈরি হওয়া ঝুঁকির মোকাবিলায় বিকল্প রুট প্রয়োজন। সেই ক্ষেত্রে তুর্কমেনিস্তান, ইরান, আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানের মাধ্যমে ভারতে পৌঁছনোর বিভিন্ন সম্ভাব্য পথ খতিয়ে দেখা যেতে পারে। ভারত পর্যন্ত পৌঁছনোর যে কোনও কার্যকর রুটকেই রাশিয়া বিবেচনা করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন তিনি।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস পরিবহণের বড় অংশ এই পথের উপর নির্ভরশীল। ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সংঘাতের জেরে সেই সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে কৃষ্ণসাগরীয় বাণিজ্যপথও ঝুঁকির মুখে। ফলে মস্কো স্থলপথে বিকল্প বাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাইছে।
রাশিয়া থেকে ভারতে রেলপথে পণ্য পরিবহণের ধারণা অবশ্য নতুন নয়। ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক উত্তর-দক্ষিণ পরিবহণ করিডর বা INSTC ব্যবহার করে ইরানের মধ্য দিয়ে দু’টি ট্রেনভর্তি কয়লা ভারতে পাঠিয়েছিল রাশিয়া। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরগুলির মাধ্যমে সেই রুট ব্যবহার নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিকল্প হিসেবে ইরান পেরিয়ে পাকিস্তান হয়ে ভারতে প্রবেশের রুট নিয়েও আলোচনা চলছে। অন্য একটি সম্ভাবনা হল উজবেকিস্তান ও আফগানিস্তান হয়ে ট্রান্স-আফগান রেলপথ ব্যবহার করে পাকিস্তানের দক্ষিণের বন্দর পর্যন্ত পৌঁছনো।
তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক। পাশাপাশি চিনও এই প্রকল্পে আগ্রহী হতে পারে, কারণ পাকিস্তানে চিনের তৈরি রেল ও পরিকাঠামোর সঙ্গে নতুন রুটের সংযোগ ঘটানো সম্ভব। রাশিয়া ও চিন ইউরেশিয়ায় রেল যোগাযোগ বাড়াতে চাইলে ভারত ও পাকিস্তানের সহযোগিতাই এই সম্ভাব্য বাণিজ্যপথের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে।