শিরোমণি অকালি দলের(এসডি) সভাপতি সুখবীর সিং বাদলের ওপর হামলা! বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট, ২০২৬ মহারাষ্ট্রের নান্দেড়ে 'নিহং শিখ' বেশধারী এক আততায়ী হামলা করে সুখবীর সিং বাদলের হাতে।তিনি প্রবল আঘাত পান। নান্দেড়ের কালেক্টর রাহুল কারদিলে বলেন 'সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।তদন্ত চলছে।' পুলিশ সূত্রে খবর, হামলাকারী আঘাতের ক্ষেত্রে একটি 'কৃপাণ' ব্যবহার করেছিল। জানা গিয়েছে নান্দেড় জেলায় দুদিনের সফর ছিল সুখবীর সিং বাদলের। তিনি সেখানে থাকা বিভিন্ন গুরুদুয়ারায় পুণ্যার্জনের জন্য যাচ্ছিলেন। 'মাতা সাহিব গুরুদ্বোয়ারা'য় থাকাকালীন তাঁর ওপর এই হামলা চালানো হয়েছিল। কারদিলে বলেন, "তাঁর হাতে সামান্য আঘাত লেগেছে। তিনি সুস্থ ও বিপদমুক্ত আছেন।" তিনি আরও বলেন,' এসএডি প্রধানকে রক্ষা করতে গিয়ে এক পুলিশ পরিদর্শকও আহত হয়েছেন। ঘটনার সময় বাদলের স্ত্রী তথা লোকসভার সাংসদ হরসিমরত কৌর বাদলও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।'
যদিও সূত্রের খবর অনুযায়ী জানা যায়, হামলায় দুজন জড়িত ছিল। তবে, নান্দেড়ের পুলিশ সুপার অবিনাশ কুমার সেই দাবি খারিজ করে দেন। তিনি বলেন, 'মাত্র একজন অভিযুক্ত জড়িত; একজন নিহং সেবাদার, যিনি ওই গুরুদুয়ারায় কাজ করতেন। সূত্র আরো জানাচ্ছে অভিযুক্তের নাম জসপাল সিং। তিনি আদালতের ক্লার্ক হিসেবে কাজ করতেন। গত দুই বছর তিনি মাতা সাহিব গুরুদুয়ারা-য় সেবাদার হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।' মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ এই হামলার তদন্তের নির্দেশ দেন। এছাড়াও তিনি পুলিশকে এই হামলার উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখতে বলেন। এর আগেও ২০২৪ সালে পাঞ্জাবের অমৃতসরে গোল্ডেন টেম্পলের বাইরে এক প্রাক্তন জঙ্গি তথা খালিস্তানপন্থী সমর্থক সুখবীর সিং বাদলকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিল। তবে সেযাত্রায় তিনি অল্পের জন্য রক্ষা পান।
এসএডি-র প্রবীণ নেতা দলজিৎ চিমা এই ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি করেন। হামলাকারীর পরনে ছিল ঐতিহ্যবাহী পোশাক 'বানা'। এক সাক্ষাৎকারে দলজিৎ চিমা বলেন, 'এই ঘটনার পেছনে আসল ষড়যন্ত্র কী এবং ওই ব্যক্তিটি কে—তিনি কি সত্যিই কোনো নিহং নাকি অন্য কোনো গোষ্ঠীর সদস্য—তা তদন্তের পরেই জানা যাবে। তিনি আরও বলেন, ‘এটি একটি গুরুতর বিষয়। যখনই অকালি দলের উত্থান ঘটে, ঠিক তখনই ষড়যন্ত্র শুরু হয়ে যায়।’