পূর্ব মেদিনীপুর, নিউজ ডেস্ক: পাঁশকুড়ার ব্লাড ব্যাঙ্কে রক্ত পাচার!ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশের দুর্নীতিদমন শাখা (এসিবি)। ধৃত তিন জনই ওই ব্লাড ব্যাঙ্কের ল্যাবরেটরির টেকনিশিয়ান বলে জানা গিয়েছে। মঙ্গলবার তিন জনকে জিজ্ঞাসাবাদের পরে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তদন্তকারীদের দাবি, গোটা কারবারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল ডোনার কার্ডের। মাত্র ১০০ থেকে ১৫০ টাকার বিনিময়ে দালালদের হাতে পৌঁছে যেত ডোনার কার্ড। সেই কার্ড দেখিয়েই ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে রক্ত সংগ্রহ করা হত বলে অভিযোগ। পরে সেই রক্তই প্রয়োজন অনুযায়ী রোগীর পরিবারকে বিক্রি করা হত।
দালালদের সঙ্গে অভিযুক্ত তিন ল্যাবরেটরি অ্যাসিস্ট্যান্টের প্রায় ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকার UPI লেনদেনের তথ্য পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি ACB-র। এই লেনদেনের সঙ্গে রক্তের বেআইনি কেনাবেচার সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর আগে এই ঘটনায় এক দালালকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পরই হাসপাতালের কর্মীদের সঙ্গে দালালদের যোগাযোগের বিষয়টি তদন্তকারীদের সামনে আসে বলে সূত্রের খবর। এরপর তিন ল্যাবরেটরি অ্যাসিস্ট্যান্টকে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
দালালদের সঙ্গে হাসপাতালের কর্মীদের কোনও নিয়মিত যোগাযোগ বা টাকা লেনদেনের সম্পর্ক ছিল কি না, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে রক্ত সংগ্রহের প্রক্রিয়া, সংশ্লিষ্ট রেকর্ড এবং রক্ত বাইরে যাওয়ার অনুমোদন সবকিছুই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি আর্থিক লেনদেনের নথিও পরীক্ষা করে দেখছেন তদন্তকারীরা।