কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: হড়পা বানের দাপটে বিধ্বস্ত প্রতিবেশী দেশ নেপাল। চোখের নিমেষে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে বহু বসতি। প্রাণ গিয়েছে অনেকের। এখনো পর্যন্ত প্রায় শতাধিক মানুষের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। ভয়াবহ এই বিপর্যয়ের মাঝে নেপালে গিয়ে নিখোঁজ হলেন খড়গপুরের এক বৃদ্ধ, চরম উৎকণ্ঠায় প্রহর গুনছে তার পরিবার।
পাহাড় অনেককে টানে। সেই অমোঘ টানে বারবার মানুষ ছুটে যান। কিন্তু সেই পছন্দের পাহাড়ই যে এমন ভয়ংকর রূপ নেবে, তা কেউ জানত না। ভয়াবহ বন্যা ও ধসে বিপর্যস্ত হয়েছে গোটা নেপাল। আর সেখানেই ঘুরতে গিয়ে নিখোঁজ হলেন খড়গপুরের এক বৃদ্ধ। ৬২ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত রেলকর্মী। তার নাম স্বপন কুমার সিনহা।
জানা গেছে, তিনি খড়গপুরের প্রেমবাজার এলাকার বাসিন্দা। মঙ্গলবার রাত থেকে তার সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করতে পারছে না পরিবার। এই ঘটনার জেরে রীতিমতো উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন বৃদ্ধের আত্মীয়-পরিজন। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দিন সাতেক আগে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন পাহাড় দেখার টানে। ২১ আগস্ট কলকাতার একটি ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলস সংস্থার উদ্যোগে বেশ কয়েকজনের একটি দলের সঙ্গে নেপাল ঘুরতে যান স্বপনবাবু।
এ বিষয়ে তাঁর স্ত্রী সোনালী সিনহা বলেন, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ন'টা নাগাদ শেষবার ফোনে কথা হয়েছিল স্বামীর সঙ্গে। সেই সময় স্বপনবাবু জানিয়েছিলেন, এলাকায় প্রবল ধস নেমেছে। তবে তিনি হোটেলেই একটি নিরাপদ স্থানে রয়েছেন। পরিস্থিতি খারাপ থাকায় নেটওয়ার্কের সমস্যা হতে পারে বলেও স্ত্রীকে আগাম জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই শেষ কথা। তারপর থেকে আর কোনও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলেই জানিয়েছেন তিনি।
এই নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে ওই ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলস-এর এক আধিকারিক জানিয়েছেন, মঙ্গলবার শেষবার ট্যুর ম্যানেজারের সঙ্গে কথা হয়েছে। এরপর বুধবার সকালে হোয়াটসঅ্যাপে তাঁর লাস্ট সিন দেখা গিয়েছে। তারপর থেকে কোনওভাবেই আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে যে ৬২ বছর বয়সী স্বপন কুমার সিনহা তাঁদের সঙ্গেই গিয়েছিলেন। তবে তথ্য সংগ্রহের কারণে সংস্থার পক্ষ থেকে এখনও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
পেশায় খড়গপুর রেলওয়ে ওয়ার্কশপের প্রাক্তন কর্মী স্বপনবাবু অবসর নেওয়ার আগে ও পরে সুযোগ পেলেই একা বা পরিবারের সঙ্গে ভ্রমণে বেরিয়ে পড়তেন। মঙ্গলবার রাতের পর থেকে পরিবারের সদস্যরা বার বার ফোন বা হোয়াটসঅ্যাপ করেও কোনও উত্তর পাননি তার কাছ থেকে। বাধ্য হয়ে নেপালে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন স্বপনবাবুর পরিবার। কিন্তু সেখান থেকেও এখনও নির্দিষ্ট কোনও খবর আসেনি তাদের কাছে।
সম্প্রতি নেপালের বিধ্বংসী বন্যায় একাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে বেশ কয়েকজন ভারতীয়ও রয়েছেন।পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারও হেল্প লাইন চালু করেছে। সংবাদমাধ্যমে এই ভয়াবহ খবর দেখার পর থেকেই খড়গপুরের প্রেমবাজারের বাড়িতে এখন শুধুই কান্নার রোল। ঘরের মানুষ কবে সুস্থ শরীরে ঘরে ফিরবেন, সেই আশাতেই পথ চেয়ে বসে আছেন সকলেই।