কলকাতা,অঙ্কন দাস: হোটেল না গোলক ধাঁধা? একবার ঢুকলে হারিয়ে যাওয়াটা কোন ব্যাপারই না! এটাই হচ্ছে হোটেল ‘শিখাহীন’। এই হোটেলেই বুকিংয়ের সময়ে 'টাকা গুনে' নিয়েছিলেন হোটেল মালিক।কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের (মির্জা গালিব স্ট্রিট) হোটেলে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের পর; অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা রুজু হতেই ,সেই হোটেল মালিক তাপস পাল পলাতক!
মেয়ের ট্রেনিংয়ের জন্য কলকাতায় এসে এই হোটেলেই ঘর ভাড়া নেন টিকন সাউ। স্ত্রী মেয়ে সহ এই হোটেলে থাকতে গিয়ে তিন দিনের ভাড়া দেন ১০ হাজার টাকা। তারপর তিনি রুমে চলে যান। এরপর খাওয়া সেরে ঘরে গিয়ে বারোটায় ঘুমিয়েও পড়েন।আগুন লাগে রাত দুটোয়। প্রথমটায় ঘুমের মধ্যে ছিলেন টিকন সাউ এবং তার পরিবার। শ্বাসকষ্ট শুরু হতে চোখ খোলেন তারা। টের পান আগুন লেগেছে। মেয়ে-বউকে নিয়ে বাথরুমে লুকোন। কল চালিয়ে দেন। সেই সঙ্গে চলে আর্তচিৎকার। উদ্ধার কাজের সময় দমকল কর্মীরা বাথরুম থেকে তাদের উদ্ধার করেন। এর মধ্যেই হোটেল মালিক বেপাত্তা! ঘটনার পর থেকে তাঁর আর কোনও খোঁজই পাওয়া যায়নি।
জানা যাচ্ছে, হোটেল ম্যানেজার নাম বীরেশ্বর মিত্র এবং আবু জাফর। বীরেশ্বর মিত্রের বাড়ি দক্ষিণ কলকাতার বেহালার ৩ নম্বর রায়বাহাদুর রোডে। আবু জাফর থাকেন কলিন রোড এলাকায়। তারা ম্যানেজার হলেও লিজ নেওয়ার জন্য, তাদের এই হোটেলে মালিকানার ক্ষমতা ছিল। আরও জানা যাচ্ছে, বীরেশ্বর মিত্রের আরেকটি হোটেল রয়েছে ওই বিল্ডিংয়ে। হোটেলটির নাম 'হোটেল জাপোন।' সেই সূত্র ধরেই সকালে বেহালা থানার পুলিশ ও নিউমার্কেট থানার পুলিশ যৌথভাবে বেহালার ওই আবাসনে পৌঁছে তল্লাশি করে। পুলিশের তল্লাশিতে ফ্ল্যাটের ভিতরে বীরেশ্বর মিত্রকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা বলছেন, ‘বীরেশ্বর মিত্রের দুটি গাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে একটি গাড়ি নিয়ে তিনি এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন বলে অনুমান। অন্য একটি গাড়ি এখনও ফ্ল্যাটের নিচে রয়েছে।’
দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী প্রশ্ন তুলছেন, 'এই ধরনের হোটেলগুলো ট্রেড লাইসেন্স পেল? এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে। প্রত্যেক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হব।' নিহতরা ভারতের মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার এবং বাংলাদেশের নাগরিক।' দমকলমন্ত্রী আরও বলেন, 'আমরা নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করছি। ভবনের ভেতরের অবস্থা খুব খারাপ। এই ভবনের ভেতর বেশ কয়েকটি হোটেল রয়েছে। এখানে যা চলছিল, তা দেখে আমি স্তম্ভিত।' ভবন কর্তৃপক্ষ ন্যূনতম নিরাপত্তা ও নির্মাণবিধি মেনে চলেনি। হোটেলগুলোর কার্যক্রম পরিচালনায় বেশ কিছু অনিয়ম ছিল।'
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে; অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই, যথাযোগ্য নিরাপত্তা নেই, সরু গলি- এসব দেখেও এত টাকা ঘর ভাড়া হয় কী করে? নাকি এই বেনিয়মের পিছনে মদত আছে কোন শক্তিশালী মাথার? টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে যাওয়া মালিক তাপস পাল কে গ্রেফতার করতে পারলেই জানা যাবে।