নিউজ ডেস্ক: মাঝ আকাশে ভয়ঙ্কর ঘটনা। ছুরির কোপ খেয়েও ১৭৪ জন যাত্রীকে প্রাণে বাঁচিয়ে তিনি এখন হিরো। এবার আহত ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে (Smit Machchhar) দেখতে হাসপাতালে হাজির হন দুবাইয়ের যুবরাজ শেখ হামদান বিন মহম্মদ বিন রশিদ অল মাকতুম। স্মিত মাচ্ছারের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং তাঁকে অভিবাদন জানিয়ে আলিঙ্গন করেন করেন দুবাইয়ের (Dubai) যুবরাজ। এরপর সোশ্যাল মিডিয়ার ‘এক্স’-এ তিনি পাইলটের সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দুবাইয়ের যুবরাজ লেখেন, 'ফ্লাইদুবাইয়ের পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের সঙ্গে দেখা করলাম৷ ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানচালক ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর সাহস, দায়িত্ববোধ ও মানবজীবনের প্রতি দরদের সর্বোচ্চ পরিচয় দিয়েছেন। আমাদের পক্ষ থেকে এবং দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি রইল শ্রদ্ধা ও প্রশংসা। আমরা গর্বিত যে তিনি আমাদের টিমের অংশ, আমাদের দেশের গৌরবময় গল্পের অংশ। তাঁর সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমির শাহি দাঁড়িয়ে রয়েছে, একটি সমব্যথী রাষ্ট্র, একটি শান্তির রাষ্ট্র এবং একটি জীবনের রাষ্ট্র৷'
গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 বিমানে ঘটে বিপজ্জনক ঘটনা। অভিযোগ, বিমানের সহ-পাইলট ককপিটের ভিতরে কুঠার দিয়ে ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছরের উপর হামলা চালান। সেই সময় বিমানের নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়। গুরুতর আহত হয়েও পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যান স্মিত। একসময় ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন তিনি। এরপর যাত্রীদের হস্তক্ষেপে অভিযুক্ত সহ-পাইলটকে নিরস্ত করা হয়। পরে বিমানের দায়িত্ব সামলে নেন অন্য পাইলটরা। শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে বিমানটি।
এই ঘটনার পর থেকেই আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসা পাচ্ছেন স্মিত। শুক্রবার হাসপাতালের শয্যা থেকেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন স্মিত মাচ্ছার। সেই কথোপকথনে হামলার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানান পাইলট। ভয়াবহ সেই পরিস্থিতির কথা বলতে গিয়ে স্মিত জানান, 'হামলার সময় তিনি হনুমান চালিশা পাঠ করছিলাম। আমি বিশ্বাস করি ঈশ্বরই আমাকে বাঁচিয়েছেন।' পাল্টা তাঁর সাহসিকতার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রীও। স্মিতকে মোদী জানান, 'আজ গোটা দেশ ও বিশ্ববাসী আপনাকে নিয়ে গর্বিত। গোটা দেশ তাঁর দ্রুত সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছে।' মোদীর সঙ্গে কথা বলার সময় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন আহত পাইলটও। চোখে জল চলে আসে স্মিত মাচ্ছারের।
