কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের প্রচারে নন্দীগ্রামে পায়ে চোট পেয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাঁচ বছর পর সেই পা-ভাঙার ঘটনাকে সম্পূর্ণ মিথ্যে বলে দাবি করছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী৷ যা নিয়ে নতুন করে গরম হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। এবার এই বিষয়ে মুখ খুললেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ।
সমাজমাধ্যমে পোস্ট মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, 'মমতাদির পা-এর জখম নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর রাজনীতি দুর্ভাগ্যজনক ও রুচিহীন। কারুর ব্যক্তিগত জখম নিয়ে কুৎসা ও অপপ্রচার আপত্তিকর। মমতাদির পায়ের জখম ছিল এবং সংশ্লিষ্ট ডাক্তাররা তার সাক্ষী। যে সংস্থায় যাঁরা চিকিৎসা করেছিলেন, তাঁরা জানেন। এখন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসন হাতে আছে বলে যে কোনো বিকৃত প্রচার করা ঠিক নয়।
কুণাল আরও বলেন, 'শুভেন্দুর বোঝা উচিত, ভাঙলে তবু জোড়ে বা সারে। কিন্তু নরম টিস্যু, মাসল আর হাড়ের উপর গভীর আঘাত সারা কঠিন। এখনও মমতাদির পায়ে ফোলা অংশ স্বাভাবিক নয়। আমি যতদূর জানি, পুরো সারেনি। তা নিয়ে উপনির্বাচনের আগে এই কুৎসিত রাজনীতি আপত্তিকর, নিন্দনীয়। মমতাদিকেই যে বিজেপি আসল প্রতিপক্ষ ভাবে এবং তাদের শয়নে স্বপনে জাগরণে মমতাদিকেই দেখে, সেটা আবার প্রমাণিত। তাছাড়া চিকিৎসক বা প্রতিষ্ঠান কখনও কারুর ব্যক্তিগত চিকিৎসাতথ্য বাইরে আনার রীতি নেই, সরকার সেটাও যেন মনে রাখে। রাজনীতিকে আর কত নিচে নামাবে এরা? মমতাদির পায়ের সেই ভয়ংকর আঘাত নিয়ে নোংরামি চূড়ান্ত আপত্তিকর।
২০২১ সালের ১০ মার্চ নন্দীগ্রামের বীরুলিয়ায় নির্বাচনী প্রচারের সময় পায়ে আঘাত পেয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় তাঁর অভিযোগ ছিল, কয়েক জনের ধাক্কায় গাড়ির দরজায় আঘাত লেগে তিনি আহত হন। পরবর্তী সময়ে পায়ে প্লাস্টার নিয়ে হুইলচেয়ারে বসেই নির্বাচনী প্রচার চালাতে দেখা যায় তাঁকে। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সে সময় রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। পাঁচ বছর পর সেই ঘটনাই ফের তুলে আনলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, মমতার পায়ে সে সময় কোনও ফ্র্যাকচার হয়নি।
এমনকি, নন্দীগ্রামের সেই ঘটনার চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে হিসাবেও তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী। একইসঙ্গে নতুন করে তদন্তের নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, 'রিপোর্টে ফ্র্যাকচারের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। নন্দীগ্রামে হেরেই তো ঘরে ঢুকে গিয়েছিল। ভালো পায়ে ব্যান্ডেজ লাগিয়ে ঘুরছিল। আমি কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করি না। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর পিজি হাসপাতালে গিয়েছিলাম। আমি ওখানকার সভাপতি, ওটা ভবানীপুরের মধ্যে পড়ে। এক্স-রে প্লেট তো ডাক্তারের থাকে না, রোগী পেয়ে যায়। রিপোর্টটা থাকে। আমার কাছে ওই কাগজটা রয়েছে। এই মিথ্যা প্রচারের’ জন্য তদন্তও শুরু করবে রাজ্য সরকার। উপনির্বাচন মিটলেই এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের কথা জানানো হবে।
