দেখে মনে হবে আর পাঁচটা সাধারন ওষুধের দোকান। কিন্তু তার আড়ালেই চলছে গোপন ক্লিনিক। আর সেখানেই গোপনে গর্ভপাত করানোর অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সম্প্রতি একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া জুরে। আর তাতেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। যদিও এই ভিডিও-র সত্যতা যাচাই করা হয়নি JAZZBAAT 24 BANGLA-র পক্ষ থেকে।
চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বেই ওই ওষুধের দোকানে বেআইনি ভাবে গর্ভপাত করানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ভিডিওর সামনে আসার পরেই চাঁচল থানার পুলিশ ওই দোকানে অভিযান চালায়। বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগ জানিয়েছিল স্থানীয় এলাকার এক যুবক আকাশদীপ চট্টোপাধ্যায়। তার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ইতিমধ্যেই ওই দোকানের মালিক সঞ্জীব সাহা এবং তার স্ত্রী মিলি সাহাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে আকাশদীপ চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, তার বাড়ির একেবারেই কাছে রয়েছে ওই ওষুধের দোকানটি। তার কাছে মাঝেমধ্যেই খবর আসতো ওই দোকানে অবৈধ কাজকর্ম হচ্ছে। বেআইনি গর্ভপাতের খবর পেয়ে তিনি দোকানে ঢুকে মোবাইলে ভিডিয়ো করেন এবং পরে বিষয়টি পুলিশকে জানান। তার অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছ।
এছাড়াও স্থানীয় অন্যান্য বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, এর আগেও অভিযুক্ত ওই দোকান মালিক গ্রেফতার হয়েছিল। পরে তাকে জামিনের মুক্তি দেয় পুলিশ। আবারও এই ঘটনার জন্য তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে বেঙ্গল কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের চাঁচল মহকুমা সংগঠন। এ বিষয়ে সংগঠনের সম্পাদক প্রণব পাল বলেন, এই ধরনের অবৈধ কাজ কোনওদিনই মেনে নেওয়া হবে না। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে যে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে তাতে তারাও সহমত। অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর ড্রাগ লাইসেন্স বাতিলের দাবিতে প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করা হবে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে মালদার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুদীপ্ত ভাদুড়ি বলেন, এই ধরনের বেআইনি ও অবৈধ কার্যকলাপ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ ও প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানোতর। বিজেপির চাঁচল বিধানসভার অবজারভার অভিষেক সিংহানিয়া এই ঘটনার জন্য নিশানা করেছেন তৃণমূলকে। এর পালটা বিবৃতি দিয়েছেন তৃণমূলের প্রাক্তন জেলা সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ ঘোষ। তার বক্তব্য, কেউ অপরাধ করলে পুলিশ-প্রশাসন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। সব কিছুর সঙ্গে তৃণমূলকে জড়ানো ঠিক নয়।
হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকার ওষুধের দোকানে এই ধরনের বেআইনি কারবারের অভিযোগ। এই ঘটনাকে ঘিরে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। পুলিশি তদন্তে আগামীদিনে কি তথ্য উঠে আসে সেদিকেই তাকিয়ে স্থানীয় মানুষজন।