রায়গঞ্জ, নিউজ ডেস্ক: শহরের ব্যস্ত এলাকার মধ্যেই বেশ কিছুক্ষণ চলছিল সন্দেহজনক গতিবিধি। বাইরের থেকে দেখলে বিষয়টি তেমন অস্বাভাবিক মনে না হলেও গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নজর রাখছিল প্রশাসন। শেষ পর্যন্ত মোহনবাটি এলাকায় পুলিশি অভিযান চালাতে তাঁদের হাতে উঠে আসে দুজন। তাঁদের কাছ থেকে এমন কিছু উদ্ধার করা হয়, যা ঘিরে তদন্তে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রায়গঞ্জ থানার পুলিশি গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মোহনবাটি এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে আগ্নেয়াস্ত্র সহ ২ যুবককে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের নাম পবন কুমার (২২) এবং রিঙ্কু কুমার (২৩)। তাঁদের দুজনেরই বাড়ি বিহারের কাটিহার জেলার বারসই থানার স্টেশন রোড সংলগ্ন এলাকায় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। তল্লাশি চালিয়ে ধৃতদের কাছ থেকে একটি ওয়ান শাটার এবং একটি তাজা কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি পুলিশের। আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধারের পর দুজনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন তদন্তকারীরা। কি উদ্দেশ্যে তাঁরা রায়গঞ্জে এসেছিলেন এবং তাঁদের সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত ছিল কি না, সেই বিষয়ে জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে এমন কিছু প্রশ্ন সামনে এসেছে যার জেরে খুনের সুপারি সংক্রান্ত সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের অনুমান, একটি দুষ্কৃতি দল কোনও অপরাধমূলক লক্ষ্য নিয়ে রায়গঞ্জে ঢুকেছিল। সেই দলেরই অংশ হিসেবে ধৃতরা এসেছিলেন কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ধৃত ২ যুবকের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং অস্ত্র আইন সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করেছে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। তাঁদের আদালতে পেশ করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
অন্যদিকে, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তাঁদের সঙ্গে থাকা বাকিদের সন্ধান চালানোর চেষ্টা করছে পুলিশ। তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, দলের আরও কয়েকজন সদস্য এখনও পুলিশের নাগালে বাইরে ঘোরাফেরা করছে। তাঁদের খোঁজে রায়গঞ্জ শহরে এবং আশেপাশে এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পুলিশের এই অভিযানের পরে ফের প্রশ্ন উঠেছে বাইরে থেকে অপরাধমূলক উদ্দেশ্যে কোনও দুষ্কৃতীর দল রায়গঞ্জে ঢুকেছিল কি না। যদিও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে কিছু মন্তব্য করতে চাইছে না পুলিশ। এখন, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং বাকি অভিযুক্তদের সন্ধান পাওয়ার পর এই গোটা ঘটনার আসল ছবি স্পষ্ট হবে।
