নিউজ ডেস্ক: শারীরিক অক্ষমতা জীবনের গতিপথ থামিয়ে দিতে পারে, কিন্তু অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে তা কখনোই আত্মমর্যাদার সামনে দেয়াল হতে পারে না। সেই সত্যটিকেই প্রতিদিন নিজের ঘাম ও পরিশ্রমে প্রমাণ করে চলেছেন এক তরুণ নাপিত। এক পায়ের ওপর ভর দিয়ে, পাশে ক্রাচ ঠেকিয়ে রেখে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গ্রাহকের চুল-দাড়ি কেটে নিজের ও পরিবারের অন্ন সংস্থান করে যাচ্ছেন তিনি। সহানুভূতি কিংবা পরনির্ভরশীলতার পথ এড়িয়ে নিজের শ্রমে বাঁচার এই লড়াই এখন অনেকের কাছেই এক অনন্য প্রেরণা।
একটি সাধারণ আধপাকা ঘরে তৈরি ছোট্ট সেলুন। দেয়ালে ঝুলছে সাধারণ আয়না, সামনে কাঠের চেয়ারে বসে আছেন গ্রাহক। আর সেই চেয়ার ঘিরে অনবরত ঘুরে চলেছেন ওই যুবক। শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে একটি পায়ে তাঁর শক্তি নেই, চলাফেরার একমাত্র সম্বল কাঠের একটি লাঠি বা ক্রাচ কিন্তু কাজ শুরু হলেই সেই ক্রাচটি তিনি পরম মমতায় পাশে সরিয়ে রাখেন। এক পায়ে দাঁড়িয়ে, নিখুঁত ভারসাম্য বজায় রেখে এক হাতে চিরুনি আর অন্য হাতে বৈদ্যুতিক ট্রিমার কিংবা কাঁচি চালিয়ে যান অপার দক্ষতায়। প্রয়োজন অনুযায়ী শরীর ঝুঁকিয়ে কিংবা এক পায়ে ভর দিয়ে ঘুরে ঘুরে গ্রাহকের চুল কাটছেন তিনি, যার মধ্যে ক্লান্তির চেয়ে বেশি ফুটে ওঠে পেশাদারিত্ব।
প্রতিদিনের এই দৃশ্য স্থানীয়দের চোখে কেবল নাপিতর কাজ নয়, বরং ভাগ্যের বিরুদ্ধে এক নীরব বিদ্রোহ। সমাজে যেখানে সামান্য শারীরিক প্রতিকূলতায় অনেকে অন্যের মুখাপেক্ষী হয়ে পড়েন বা ভিক্ষাবৃত্তির পথ বেছে নেন, সেখানে এই যুবক বেছে নিয়েছেন শ্রম ও আত্মসম্মানের পথ।
স্থানীয় এক নিয়মিত গ্রাহক জানান, “তাঁর কাছে চুল কাটাতে এলে কখনও মনে হয় না তিনি শারীরিকভাবে পিছিয়ে আছেন। কাজের প্রতি তাঁর মনোযোগ ও যত্ন নিখুঁত। কোনো করুণা নয়, তাঁর এই নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জেদ আর পরিশ্রম দেখে আমরা সম্মান জানাতেই তাঁর দোকানে আসি।”
এই লড়াইটা সহজ নয়। টানা কয়েক ঘণ্টা এক পায়ে দাঁড়িয়ে কাজ করা স্বাভাবিক মানুষের পক্ষেও কঠিন, কিন্তু প্রতিদিনের অভ্যাসে সেই কষ্টকে জয় করেছেন তিনি। কোনো বড় সুযোগ-সুবিধা বা আধুনিক যন্ত্রপাতির আড়ম্বর নেই, রয়েছে শুধু সততা আর বেঁচে থাকার এক অটল সংকল্প।
সমাজকল্যাণমূলক নানা প্রকল্পের ভিড়ে এমন স্বাবলম্বী মানুষদের সামান্য সহায়তা বা প্রয়োজনীয় উপকরণ পৌঁছে দিলে তাঁদের পথচলা আরও সহজ হতে পারে। তবে কারও সহায়তার আশায় হাত গুটিয়ে বসে থাকার পাত্র তিনি নন।
