নিউজ ডেস্ক: এক লহমার অসতর্কতা, আর তাতেই নিমেষে নেমে এলো গভীর অন্ধকার। হরিয়ানার ফরিদাবাদের সিহি গ্রামে খেলতে গিয়ে হঠাৎ একটি গভীর ও উন্মুক্ত নলকূপের গর্তে পড়ে গেল ৩ বছর বয়সী এক শিশুকন্যা। ঘটনার খবর ছড়াতেই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। শিশুটিকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে রাতেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নামানো হয়েছে পুলিশ, দমকল ও উদ্ধারকারী দল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যার দিকে বাড়ির অদূরেই অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলো করছিল একরত্তি মেয়েটি। কিন্তু পথচলতি জায়গার পাশেই ঢাকনাহীন অবস্থায় মুখ খোলা ছিল একটি বিপজ্জনক বোরওয়েলের পাইপ। খেলার ছলে অসাবধানতাবশত পা পিছলে সোজা সেই সরু গর্তের গভীর অতলে তলিয়ে যায় সে। সঙ্গে থাকা অন্য বাচ্চাদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং সঙ্গে সঙ্গেই প্রশাসনকে খবর দেওয়া হয়।
কাজে বেরোনো অসহায় বাবা খবর পেয়ে ছুটে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন। হাতজোড় করে অশ্রুসজল চোখে তিনি জানান, প্রতিদিনের মতো কাজ সেরে সাড়ে ছ’টা নাগাদ বাড়ি ফিরে তিনি মেয়ের এই দুর্ঘটনার কথা শোনেন।
চোখের জল মুছতে মুছতে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাস্তার ধারে এমন একটি সরকারি বোরওয়েল বছরের পর বছর কোনো ঢাকা ছাড়া অরক্ষিত ফেলে রাখা হয়েছিল, যার মাশুল দিতে হলো তাঁর নিষ্পাপ সন্তানকে। ওদিকে ঘটনাস্থলে মা ও পরিবারের মহিলাদের বুকফাটা আর্তনাদে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।প্রতিবেশীরা তাঁদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেও দুশ্চিন্তার প্রহর যেন শেষ হতে চাইছে না।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই হরিয়ানা পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের পদস্থ কর্তারা দলবল নিয়ে পৌঁছান। তৎপরতার সঙ্গে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসা হয় হরিয়ানা দমকল ও জরুরি পরিষেবা বিভাগের গাড়ি। শিশুটির শ্বাসপ্রশ্বাস যাতে ব্যাহত না হয়, সেজন্য পাইপের ভেতর দ্রুত অক্সিজেন পাঠানোর বন্দোবস্তের পাশাপাশি প্রস্তুত রাখা হয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তরের জরুরি অ্যাম্বুল্যান্স ও চিকিৎসক দল। উদ্ধারকাজে গতি আনতে পৌঁছায় জেসিবি এক্সকাভেটর মেশিন। বোরওয়েলের সমান্তরালে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় বের করে আনার পরিকল্পনা নিয়ে অবিরাম কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
দেশজুড়ে সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশিকা থাকা সত্ত্বেও লোকালয়ের মাঝে এমন প্রাণঘাতী খোলা বোরওয়েল কীভাবে ফেলে রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশাসনের বিরুদ্ধে ফুঁসছেন গ্রামবাসীরা। আপাতত ক্ষোভ সরিয়ে রেখে সবার চোখ উদ্ধারকারী দলের তৎপরতার দিকে, একরত্তি প্রাণটি যেন সুস্থভাবে মায়ের কোলে ফিরে আসে, সেই প্রার্থনাই করছে পুরো গ্রাম।
