নিউজ ডেস্ক: মসজিদ ভাঙাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনী। সোমবার, রাস্তা চওড়া করার জন্য শাহি মসজিদের একাংশ ভাঙাকে কেন্দ্র করে তুমুল উত্তেজনা। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার ওঠে অভিযোগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায় পুলিশ। পাথর ছোড়ার অভিযোগে ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয় র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স বা RAF।
পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীদের ছোড়া পাথরে প্রায় ছয়জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে পুলিশ। পাশাপাশি লাঠিচার্জ করে জমায়েত ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে নতুন করে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। পুরো এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
https://jazzbaat24.news/news/Ujjain%20Tense%20After%20Mosque%20Demolition%20Drive%2C%2010%20Booked
পুলিশ সূত্রে খবর, অশান্তির ঘটনায় ১০ জনকে চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে পাঁচজন সমাজমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে উত্তেজনা বাড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে উজ্জয়িনী ও পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে বাহিনী এনে প্রায় ২,৫০০ পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, ২০২৮ সালের সিংহস্থ মেলাকে সামনে রেখে উজ্জয়িনীতে রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ চলছে। সেই প্রকল্পের আওতায় শাহী মসজিদের একটি অংশ রাস্তার নির্ধারিত সীমানার মধ্যে পড়েছে। প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, মসজিদের প্রায় ৯ ফুট লম্বা এবং ৪ ফুট চওড়া অংশ সরানোর প্রয়োজন রয়েছে। সেই মতো সোমবার সকালে মসজিদের ওই অংশ অপসারণের কাজ শুরু হয়। কিন্তু এই উদ্যোগে আপত্তি জানান স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে, মসজিদের একাংশ ভাঙার প্রতিবাদে পরে বিপুল সংখ্যায় মুসলিম মহিলারাও ঘটনাস্থলে জড়ো হন। তাঁদের দাবি, মসজিদ অপসারণের কাজ বন্ধ করতে হবে। একইসঙ্গে মসজিদের অংশবিশেষ ভাঙার সিদ্ধান্ত ঘিরে আপত্তি জানিয়েছেন স্থানীয়দের একাংশ। একদিকে সিংহস্থ মেলার আগে পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ, অন্যদিকে ধর্মীয় স্থাপনার একাংশ অপসারণ নিয়ে স্থানীয়দের আপত্তি নিয়ে রীতিমতো উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরী হয়।
