দীর্ঘ কয়েক মাসের নীরবতার পর অবশেষে প্রকাশ্যে এলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই। তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে যখন আন্তর্জাতিক মহলে একের পর এক জল্পনা ছড়াচ্ছে, ঠিক সেই সময়েই ইরানের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সি প্রকাশ করল তাঁর ১২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও। তবে ভিডিওটি কবে বা কোথায় ধারণ করা হয়েছে, তা জানানো হয়নি।
প্রকাশিত ভিডিওতে মোজতবাকে কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। তাঁকে স্বাভাবিক অবস্থাতেই দেখা গিয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের সংবাদমাধ্যম। মেহর জানিয়েছে, বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ মোজতবা খামেনেইয়ের এই ভিডিও প্রথমবার প্রকাশ করা হল।
কিন্তু ভিডিও প্রকাশের পরেও পুরোপুরি কাটছে না রহস্য। কারণ, গত কয়েক মাস ধরে প্রকাশ্যে প্রায় অনুপস্থিত মোজতবা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় তাঁর বাবা ও ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই নিহত হওয়ার পর থেকেই মোজতবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা খবর সামনে আসতে থাকে। ওই হামলায় তাঁর মুখ ও পায়ে গুরুতর আঘাত লেগেছিল বলেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।
এরপর ৮ মার্চ দেশের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ৫৬ বছর বয়সি মোজতবা। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তাঁর উপস্থিতি মূলত সীমাবদ্ধ থেকেছে লিখিত বিবৃতিতে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে একাধিক বার্তা দেওয়া হলেও প্রকাশ্যে তাঁর কোনও সাম্প্রতিক ছবি বা অডিয়ো বার্তা সামনে আসেনি। এমনকি বাবার শেষকৃত্যেও তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।
এর আগে ২০ মার্চ ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি মোজতবার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিল। সেখানে তাঁকে ধর্মীয় শিক্ষাদানের সময় দেখা যায়। সেই ভিডিওটিরও নির্দিষ্ট সময় ও স্থান জানানো হয়নি।
মোজতবার সঙ্গে যোগাযোগ নিয়েও সম্প্রতি মুখ খুলেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তাঁর দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে মোজতবার সঙ্গে যোগাযোগ করা “খুব কঠিন”। তবে তাঁর সঙ্গে বৈঠক হয়েছে এবং সেই বৈঠকে মোজতবাকে সৌজন্যপূর্ণ ও যুক্তিবাদী বলেই মনে হয়েছে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মাসে দাবি করেছিলেন, মোজতবার অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক। ইজরায়েলের চ্যানেল ১৪-ও সম্প্রতি তাঁর শারীরিক অবস্থা খারাপ বলে দাবি করেছে।
এই আবহে নতুন ভিডিও প্রকাশ নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। তবে ভিডিওটি কবে ধারণ করা হয়েছে, তা স্পষ্ট না হওয়ায় মোজতবার বর্তমান স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিশ্চিত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো এখনও সম্ভব নয়। ফলে ভিডিও প্রকাশের পরও ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে ঘিরে রহস্য পুরোপুরি কাটল না, বরং নতুন করে উঠছে আরও প্রশ্ন।