সেবাশ্রয় প্রকল্পের দুর্নীতির পর আবারও কাঠগড়ায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২২ সালে ডায়মন্ড হারবারে ‘মেগা কোভিড-১৯ টেস্টিং ড্রাইভ’-এ চিকিৎসায় গাফিলতি ও তথ্যে অনিয়মের অভিযোগে বড়সড় পদক্ষেপ করল জাতীয় মেডিক্যাল কমিশন। বিষয়টি নাম জড়িয়েছে তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ডের। গুরুত্ব বিবেচনা করে এনএমসি-র এথিক্স অ্যান্ড মেডিক্যাল রেজিস্ট্রেশন বোর্ড অভিযোগটি পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিলের কাছে পাঠিয়েছে এবং যথাযথ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।
এই ঘটনাটি নিয়ে অভিযোগ জানান বিজেপির নেতা অভিজিৎ দাস (ববি)। তাঁর দাবি,২০২২ সালের ১২ জানুয়ারি একদিনেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারে ৫৩২০৩টি র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করার কথা বলা হয়েছিল। তবে তিনি এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে একাধিক মারাত্মক প্রশ্ন তুলেছেন। প্রায় ৫৩ হাজারের বেশি নমুনা পরীক্ষা ও তথ্য যাচাইয়ের দায়িত্বে মাত্র ২৬ জন চিকিৎসক ছিলেন,যা বাস্তবে প্রায় অসম্ভব।
তিনি এই প্রসঙ্গে বলেছেন--'অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এখানকার মানুষের বিশ্বাস ভেঙেছেন।তিনি চাউর করেছেন একদিনেই নাকি ৫৫হাজার করোনা টেস্ট করেছেন। তা নিয়ে তিনি টুইট করেন,ফেসবুকেও দেন।উনি যে ৫৩হাজার টেস্ট করালেন,এত কিট উনি কোথায় পেলেন?'শুধুমাত্র মন্তব্য করেই থামেননি ডায়মন্ডহারবারের এই বিজেপি নেতা। তাঁর করা অভিযোগপত্রে মূল অভিযুক্ত হিসেবে নিশানায় রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
সেদিনের সরকারি বুলেটিন অনুযায়ী সমগ্র রাজ্যে পরীক্ষা হয়েছিল ৭১৭৯২টি। যদি ডায়মন্ডহারবারেই ৫৩ হাজার পরীক্ষা হয়, তাহলে রাজ্যের বাকি পরীক্ষার পরিসংখ্যান নিয়ে অসামঞ্জস্যতা দেখা দেবে। আইসিএমআর-র কোল্ড চেইন বজায় রাখা,কিট ভ্যালিডেশন এবং বায়োমেডিক্যাল বর্জ্য নিষ্কাশনের নির্দিষ্ট বিধিমালা মানা হয়নি। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত প্রচারে রাজনৈতিক স্লোগান ব্যবহার করে চিকিৎসার নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ।এই প্রেক্ষিতে তৎকালীন সিএমওএইচ এবং বিএমওএইচ সহ দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে আর্জি জানিয়েছেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস(ববি)।