একটা সময় তাঁর লেখা বই পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত লাইব্রেরিতে থাকাটা ছিল 'বাধ্যতামূলক'। তাঁর রাজনৈতিক পরিচিতি ছাপিয়েও তিনি হতে চেয়েছিলেন তার লেখা কবিতা বিতর্কের মুখেও পড়েজে--বিশেষ করে 'হাম্বা হাম্বা রাম্বা রাম্বা'।তিনি একইসঙ্গে কবি-চিত্রকর-সুরকার ইত্যাদি গুনে গুনী। বুঝতে পারছেন,কার কথা বলা হচ্ছে? ঠিকই ধরেছেন--পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল হল। নবান্ন নীল-সাদা'র জায়গায় গেরুয়া হল! সেইসময় তিনি দু'তিনটি কবিতার মাধ্যমে দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছিলেন।সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখা হল আবারও। গতকাল তিনি একটি কবিতা লেখেন।কবিতার নাম 'বজ্রলিখন'। কবিতাটি পড়া যাক--
আরশোলা-টিকটিকি-গিরগিটি
অকুতভয় বিচ্যুটি
সামলে রাখুন,রক্ষা করুন
কাঠবেড়ালের খরকুটি
সবাই কাজ করুক,সব চ্যাপাটি
রক্ষা করুন,ক্ষুধার রুটি।
অনুমতিও বন্ধ
গণতন্ত্রও স্তব্ধ?
সব হবে লন্ডভন্ড
অপেক্ষা করো লক্ষ রাখো
বুদ্ধি জাগাও, বিবেক দ্যাখো
জনগণের দরবারে
বিচার পাবে একেবারে
রিক্ততা নয়,শূন্যতা নয়,
আসুক প্রাণের স্পন্দন
সব হতাশা ছিন্ন করে--
আসুক সংগ্রামের বজ্রলিখন।
কবিতাটি কোথাও গিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর মানসিক অবস্থাকে ফুটিয়ে তুলেছে। কবিতার লাইনগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে দলবদল,নেতা-কর্মীদের ওপর প্রশাসনিক চাপবৃদ্ধি ক্ষমতা ভাগ হয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে সম্প্রতি দিল্লির যন্তরমন্তরে ছাত্র আন্দোলনের কথাও উঠে আসছে।
তবে এর সঙ্গেই উঠছে প্রশ্ন। নেটাগরিকদের মতে এই কবিতাটি কী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের লেখা নাকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার করে লেখা।কারন এই কবিতার নেপথ্য পোস্টার দেখলে বোঝা যাচ্ছে যে--সেটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নিয়ে তৈরি।তাই কবিতার মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। তবে পালাবদলের পর কবিতার ক্ষেত্রেও কী পালাবদল ঘটাবেন কবি 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়'? সেই প্রশ্ন কিন্ত রাজ্যবাসীর থেকেই যাচ্ছে।