দেশ জুড়ে পালিত হচ্ছে ভারতের ৮০ তম স্বাধীনতা দিবস। দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লর প্রাচীর থেকে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর তারপরেই প্রতিবারের মতন এ বছরও জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী।
এ বছর স্বাধীনতা দিবসে টানা ১৩ তম বার দিল্লির লালকেল্লা থেকে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ভাষণের শুরুতেই দেশের সকল বীর সন্তানদের স্মরণ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ আজ নতুন উৎসাহ ও সংকল্প নিয়ে এগিয়ে চলেছে। এই বিশেষ দিনে ভারত মাতার জন্য যারা নিজেদের জীবন বলিদান করেছেন সেই সকল বীরকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে গোটা দেশ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন একটি জাতির স্বপ্ন যখন বড় হয় এবং সেই স্বপ্নের সংকল্প দৃঢ় হয়, তখনই সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেয়। আর এখন ছোটখাট লক্ষ্য নিয়ে এগোনোর সময় নয়। বড় স্বপ্ন দেশের সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে। এদিন লালকেল্লা থেকে ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার সংকল্পের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন ভারত আজ বড় স্বপ্ন দেখতে শিখেছে। উন্নত ভারত গড়ার সংকল্পই দেশের সাহস আত্মবিশ্বাস ও সক্ষমতার প্রমাণ।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের দারিদ্রতা দূরীকরণে সরকার অনেকটাই সফলতা অর্জন করেছে। তিনি দাবি করেন, গত কয়েক বছরের মধ্যে প্রায় ২৫ কোটি মানুষ দারিদ্র সীমার বাইরে বেরিয়ে এসেছে। ভারত একসময় বিশ্বের ফ্র্যাজাইল ফাইভ হিসাবে চিহ্নিত ছিল। বর্তমানে ভারত বিশ্বের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক দেশ হিসাবে পরিচিতি পেয়েছ।
এমনকি দেশের উৎপাদন ক্ষেত্রেও অগ্রগতির খতিয়ান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, গত ১২ বছরে প্রতিরক্ষা উৎপাদন প্রায় চারগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে খাদি ও গ্রামীণ শিল্পের উৎপাদন প্রায় ৫ গুন এবং ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন প্রায় ৭ গুণ বেড়েছে। এছাড়াও আধুনিক রেল কোচ উৎপাদনে প্রায় ২১ গুন, মোবাইল ফোন উৎপাদনে প্রায় ৩৩ গুন বৃদ্ধি হয়েছে বলে দাবি করেন নরেন্দ্র মোদী।
গত ১২ বছরে দেশ দ্রুত গতিতে এগিয়েছে। অর্থনীতি থেকে শুরু করে উৎপাদন ও প্রযুক্তি বিভিন্ন ক্ষেত্রেই ভারত নিজের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে বলে দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী। তার বক্তব্যে স্পষ্ট, উৎপাদন ক্ষমতা, প্রযুক্তি এবং আত্মনির্ভরতার শক্তিকে কাজে লাগিয়ে আগামী দিনে ভারতকে দ্রুত উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।