দিল্লী, পিউ নন্দী:ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর জন্মবার্ষিকীতে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যম বার্তায় তিনি দেশের প্রয়াত এই নেতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন।
১৯৪৪ সালের ২০ আগস্ট তৎকালীন বোম্বাইয়ে জন্মগ্রহণ করেন রাজীব গান্ধী।তার শৈশব কেটেছিল রাজধানী দিল্লির তিনমূর্তি ভবনে, দাদু জওহরলাল নেহরুর সান্নিধ্যে। দেরাদুনের ওয়েলহ্যাম ও দুন স্কুলে পাঠ শেষ করে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে যান এবং ট্রিনিটি কলেজ ও ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়েন। রাজনীতির প্রতি শৈশব থেকে আগ্রহ না থাকলেও প্রযুক্তি, সংগীত ও আলোকচিত্রের প্রতি তাঁর বিশেষ ঝোঁক ছিল। দেশে ফিরে দিল্লি ফ্লাইং ক্লাব থেকে বাণিজ্যিক পাইলটের লাইসেন্স নিয়ে তিনি ‘ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স’-এ পেশাজীবন শুরু করেন। সেই সময়েই কেমব্রিজের সহপাঠী সোনিয়া মাইনোকে বিয়ে করে সংসারজীবন শুরু করেন তিনি, যাঁর সঙ্গে তাঁর দুই সন্তান রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা।
১৯৮০ সালে ভাই সঞ্জয় গান্ধীর বিমান দুর্ঘটনায় আকস্মিক প্রয়াণের পর রাজনীতিতে প্রবেশ করতে বাধ্য হন রাজীব গান্ধী। আমেঠির উপনির্বাচনে জয়ের পর তিনি ধীরে ধীরে দলের নেতৃত্বে উঠে আসেন। ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর প্রয়াণের পর মাত্র ৪০ বছর বয়সে দেশের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কার্যভার গ্রহণ করেন তিনি। একই বছর সাধারণ নির্বাচনে কংগ্রেসের বিপুল জয়ে বড় ভূমিকা রাখে তাঁর নেতৃত্ব, যেখানে দল ৫০৮টি আসনের মধ্যে রেকর্ড ৪০১টিতে জয়লাভ করে। সরকার পরিচালনার সময়ে ভারতে আধুনিক প্রযুক্তি, কম্পিউটার ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার ভিত শক্ত করার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছিলেন তিনি।
১৯৮৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর বিরোধী দলনেতার দায়িত্ব পালন করা রাজীব গান্ধী ১৯৯১ সালের পুনর্বার নির্বাচনী প্রচার চলাকালীন মর্মান্তিক পরিণতির শিকার হন। ওই বছরের ২১ মে তামিলনাড়ুর শ্রীপেরুমবুদুরে একটি আত্মঘাতী বোমা হামলায় প্রাণ হারান তিনি। তাঁর প্রয়াণ ভারতীয় রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর জন্মবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা জানাই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী।