দীর্ঘদিন ধরে চলছিল জল্পনা। অবশেষে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে নয়া নিয়ম চালু হলো নৈহাটির বড় মায়ের কালী মন্দিরে। পরিচালক কমিটি ভেঙে দিয়ে গঠন করা হলো ২১ সদস্যের নতুন ট্রাস্টি বোর্ড। বর্তমান বিধায়কের সম্মতিতেই গড়ে উঠেছে এই নতুন কমিটি বলে জানা গিয়েছে। নতুন এই কমিটি গঠন হওয়ার ফলে একদিকে যেমন একাধিক প্রত্যাশা তৈরি হচ্ছে ভক্তদের মধ্যে তেমনই নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
এ বিষয়ে নতুন কমিটির সদস্য অয়ন সাহা বলেন, এই কমিটি কোনো রাজনৈতিক রঙে পরিচালিত হবে না। তার কথায়, বড়মা কালী মন্দিরে আগত প্রত্যেক ভক্তই সমান মর্যাদা পাবেন। অতীতের বহু অভিযোগ উঠেছিল। মন্দিরের ভিআইপি কালচারের বিরুদ্ধে। সেই সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিছে। মন্দিরে আর কোনো ভিআইপি সংস্কৃতি থাকবে না। পুজোর নিয়ম ও স্বচ্ছতা বজায় থাকবে সর্বত্র। সুশৃংখলভাবে সমস্ত কিছু গড়ে তুলতে একাধিক পরিষেবা চালু করা হবে।
তিনি আরো বলেন, অতীতের মত ভবিষ্যতেও ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা সম্মানিক গ্রহণ করবে না। ভক্তদের সুবিধা-অসুবিধা ও মন্দিরের উন্নয়নে তারা এগিয়ে আসবে।
তবে নতুন কমিটি গঠনের পর থেকেই শুরু হয়েছে নয়া বিতর্ক। নৈহাটির একাংশ বাসিন্দাদের দাবি, আগের কমিটিতে যারা ছিলেন তারা বেশিরভাগই তৃণমূল ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ছিলেন। তাদেরকেই আবার গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে বর্তমান কমিটিতে। রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত কমিটি যাতে থাকে সেই দাবি করেছেন তারা।
নতুন কমিটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আগে বড় মায়ের মন্দিরে পুজো দিতে এসে ভক্তদের যে অসুবিধা ও হয়রানির মধ্যে পড়তে হতো পরবর্তীতে তা হবে না। সকল ভক্তরা সমান অধিকার পাবে। আগামী কালীপুজোকে ঘিরে একাধিক পরিকল্পনা ও নয়া উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
নতুন কমিটি গঠন হওয়ার পর এবার বড় মায়ের মন্দিরে কি পরিবর্তন হয়। ভক্তদের প্রত্যাশা পূরণ হয় কিনা সেটাই এখন দেখার। তবুও কিছুটা হলেও আশার আলো দেখছেন ভক্তরা।